আহত সদস্যকে দেখতে গিয়ে সড়কে শেষ এক পরিবার

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:১২ এএম

লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম মান্দারী এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত  অটোরিকশার চালকসহ ৭জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত ৬জন একই পরিবারের সদস্য। হাসপাতালে ভর্তি পরিবারের এক সদস্যকে দেখতে যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের সাদারঘর এলাকার শাহ আলম ও তার শিশুপুত্র অমিত হোসেন, সামছুন নাহার ও তার দুই মেয়ে নাছিমা আক্তার, রোকেয়া বেগম ও মেয়ের জামাতা রুবেল হোসেন এবং একই উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশা চালক নুর হোসেন।

স্বজনরা জানায়, নিহত শাহ আলমের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী নাদিম মাহমুদ অন্তরকে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুরের সাদারঘর এলাকায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করেন। তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অন্তরকে দেখতে তার পারিবারের লোকজন হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।

পশ্চিম মান্দারী এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি পৌঁছলে দ্রুতগতিতে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে অটোরিকশাটি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান সবাই।

এদিকে ঘটনার পর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় রাস্তার দু-পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, রেকার আসতে দেরি হওয়াতে উদ্ধার কাজে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। সঠিক সময়ে রেকার আসলে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালাক মো. আবদুল্লাহ ও চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহজাহান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, দুর্ঘটনায় এত প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। কি কারণে এ সড়কে এত দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত