রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ভিটায় হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০৪ এএম

রোহিঙ্গা সংকটের মাঝেই সহিংসতা-কবলিত রাখাইন প্রদেশে নতুন করে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে মিয়ানমার সরকার। এ ছাড়া দেশটিতে নতুন করে সাড়ে ৯ লাখ একর জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাখাইনের কী পরিমাণ জমি রয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশ সংলগ্ন রাখাইন সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি) হামলার দাবি করেছে মিয়ানমার। ঘটনাগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পেছানোয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মিয়ানমারের গণমাধ্যমগুলো।

মিয়ানমার টাইমসের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে মিয়ানমার সরকার। জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) সহায়তায় ওই প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৯ লাখ ইউএস ডলার। দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইউ উইন খাইং বলেন, থান্ডোতে ১১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিয়াকফু অঞ্চলে অপর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সাল। সেখান থেকে উৎপাদিত হবে  ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে রাজ্যের পোনাংউন, রাথেডং, বুথিডং ও মংডু শহরতলির আবাসিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে প্রশাসন। একটি সাবস্টেশন থেকে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৈদ্যুতিক লাইন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, নতুন করে সাত হাজার ৮০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। বাড়িগুলোতে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই মন্ত্রী। 

একই সংবাদমাধ্যমের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ৯ লাখ ৫৪ হাজার একর ‘অব্যবহৃত’ জমি বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। ওই জমি এখন কৃষি ও খনিজ সম্পদ আহরণের কাজে ব্যবহৃত হবে। নতুন করে বাজেয়াপ্ত করা জমির মধ্যে রাখাইন প্রদেশের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভূমি রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি মিয়ানমার টাইমস। এর আগে সহিংসতা-কবলিত রাখাইনের অনেক জমি বাজেয়াপ্ত করে সরকার। এর মধ্যে সম্প্রতি কিছু জমি স্থানীয় বৌদ্ধদের মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়।

গত বুধবার নতুন করে ভূমি বাজেয়াপ্তের খবর জানিয়েছে দেশটির সরকার। অবকাঠামো বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপমন্ত্রী ইউ কিয়া লিন জানান, গত মঙ্গলবার সংসদের নিম্ন কক্ষে বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। মিয়ানমারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী উপসচিব ইউ মিয়ে তিন্ত তুন বলেন, ‘ইজারা দেওয়া ওই জমিগুলো চার বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত রয়েছে। কোনো কোনো জমি ১০ ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে না।’

দেশটির আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সময় সরকারের জব্দ করা জমি পরবর্তী সময়ে মূল মালিকদের কাছে সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। প্রাথমিকভাবে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর কয়েক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সরকার চাইলে ইজারার মেয়াদ বাড়ানো বা বাতিল করা হয়। গত নভেম্বরও রাখাইন রাজ্যে এভাবে ৩০০ একর জমি স্থানীয় বৌদ্ধদের ইজারা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরাবতী। 

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাখাইনের মংডুতে আরসার সদস্যরা নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ইরাবতী জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় চালানো ওই হামলায় নিজেদের তিন কর্মকর্তা আহতের খবর জানিয়েছে সীমান্ত পুলিশ। তবে আরসার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি।

রাখাইনে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো আরসার বিপক্ষে হামলা চালানোর দাবি করল সেনাবাহিনী। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে রাজ্যটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বৈশ্বিক সমালোচনার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করলেও তা শুরু করেনি মিয়ানমার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত