মেহেরপুরে গবেষণা গমের ব্লাস্ট রোগ নির্মূল হবে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৫২ পিএম

‘দেশ গমের ভয়াবহ ক্ষতিকর ব্লাস্ট রোগ চিরতরের জন্য দূর হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী নানা পদ্ধতি আবিষ্কার হবে। এতে গমসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে চাষির আগ্রহ বাড়বে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কমবে।’ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. বাহাদুর মিয়ার নেতৃত্বে মেহেরপুরের নতুন মদনাডাঙ্গার কৃষকের মাঠে সরকারিভাবে শুরু হওয়া গবেষণা নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. বাহাদুর জানান, ব্লাস্ট থেকে গমকে রক্ষা এবং এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ খুঁজতে শুরু হওয়া এই গবেষণা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে (ডিএই) যৌথভাবে হচ্ছে। দুই বিঘা গমের জমির ওপর সাতটি পদ্ধতিতে চলছে এই গবেষণা। ব্লাস্ট প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান জানান, গম বপন থেকে উৎপাদন পর্যন্ত এই গবেষণা ২০ নভেম্বর শুরু হয়েছে। শেষ হবে মার্চে। ব্লাস্ট ছত্রাকজনিত রোগ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনাপরথি অরাইজি (পাইরিকুলারিয়া অরাইজি) প্যাথোটাইপ ট্রিটিকাম। গমে শিষ বের থেকে ফুল ফোটা সময়ে তুলনামূলক উষ্ণ আর্দ্র  আবহাওয়া থাকলে এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। রোগটি ১৯৮৫-তে ব্রাজিলে দেখা যায়। বাংলাদেশে ২০১৬ ফেব্রুয়ারিতে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, বরিশাল ও ভোলা জেলায় দেখা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গমে এই রোগ দেখা দিলে গম বড় হওয়ার পর শিষে পুষ্টদানা হয় না। একপর্যায়ে বিস্তীর্ণ জমির গম শুকিয়ে মরে যায়। ২০১৬-১৭ সালে সরকার ঘোষণা দিয়ে ব্লাস্ট আক্রান্ত জমির গম পুড়িয়ে ফেলে। রোগটি প্রথম শনাক্ত হয় মেহেরপুরে। তখন কোথাও ৪০ কোথাও ১০০ ভাগ গম নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে সরকার প্রতিকার না পাওয়া পর্যন্ত গম চাষে কৃষককে অনুৎসাহিত করে আসছিল। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার সরকার জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনটি গম উৎপাদনে সবচেয়ে ভালো জাত এবং গমে কার্যকরী ওষুধ বা স্প্রে প্রয়োগ ছাড়াও রোগপ্রতিরোধে মাটির শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টিও গবেষণায় উঠে আসবে। এ ছাড়া রোগাক্রান্ত গম ক্ষেতে অন্য ফসল লাগালে সেটা রোগাক্রান্ত হবে না- এর নিশ্চয়তাও এই গবেষণায় পাওয়া যাবে। গবেষণায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের  স্নাতকোত্তর বিভাগের ছাত্রী ফেরদৌসী শবনম তিশা জানান, ব্লাস্ট নির্মূলসহ ফসলের রোগপ্রতিরোধে নতুন নতুন নিউট্রেন্ট ব্যবহারের তথ্য মিলবে এই গবেষণায়। এ জন্য বাজারে সরবরাহকৃত ছত্রাকনাশক বিভিন্ন নিউট্রেন্টের ওপরও পরীক্ষা চলছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ময়মনসিংহ) রিসার্স ফেলো, হুমায়ুন কবির জানান, গবেষণায় ১০ জন এমএস এবং দুজন পিএইচডি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। ৪৮ গমের ম্যাটেরিয়ালসহ দেশি-বিদেশি অনেকগুলো ফানজিসাইট ও নিউট্রেন্ট ব্যবহার করে এই গবেষণায় এমন একটি তথ্য বের হবে, যে তথ্যের ভিত্তিতে কৃষক গমে কী ওষুধ, স্প্রে ব্যবহার করলে বা কোন স্টেজে নিউট্রেন্ট স্প্রে করলে বা গমের কোন জাতটি চাষ করলে ব্লাস্ট বা ছত্রাক দেখা দেবে না সেটা জানতে পারবে। এতে গমসহ ফসল নির্বিঘ্নে আবাদ করতে পারবে কৃষক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত