নোয়াখালীর হাতিয়ায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধে সহায়তা করায় সন্ত্রাসীরা একজন মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের এক ইমামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারধর করেছে। গুরুতর আহত মাদ্রাসাশিক্ষক তারিকুল মাওলা গত বুধবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনাস্থল দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এ খবর পেতে দেরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে হাতিয়ার ১নং হরনি ইউনিয়নের পূর্ব রসুলপুর গ্রামের ‘পুলিশের দোকান’ নামের এলাকায় সাবের আহম্মদের বাড়িতে। গতকাল শুক্রবার এ ব্যাপারে হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়। ভুক্তভোগী মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইমাম এবং স্থানীয় এলাকাবাসী ও হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হাতিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে তারিকুল মাওলা হাতিয়ার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের ১নং হরণি ইউনিয়নের পূর্ব রসুলপুর গ্রামের দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক। এ মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে রাজমিস্ত্রি পেশার এক তরুণের বিয়ের আয়োজন করা হয় গত মঙ্গলবার। এ খবর জানতে পেরে শিক্ষক তারিকুল মাওলা গত সোমবার বিকেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে মেয়েটির বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
পরদিন গত মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসাশিক্ষক তারিকুল মাওলা পূর্ব রসুলপুর জামে মসজিদের ইমাম মিনহাজুল ইসলামকে নিয়ে হাতিয়া বাজারে যাওয়ার পথে কতিপয় বখাটে সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে। পূর্ব রসুলপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল কাদের, আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ আলী মহব্বত, আবদুল জিলানীর ছেলে এনায়েত হোসেন বেচু, সমির উদ্দিন, বাবলু ও কালামসহ ১০-১২ জন বখাটে সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। বখাটেরা শিক্ষক ও ইমামকে মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়ি নিয়ে যায় এবং দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম পেটায়। পেটানোর সময় ওই দুজনের পকেটে থাকা হাজার পাঁচেক টাকা, চারটি মোবাইল ফোনসেট, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মাথায় থাকা টুপিও নিয়ে যায়। পরে কয়েকটি স্ট্যাম্প এবং কাগজে জোর করে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত নিয়ে আহত শিক্ষক তারিকুল মাওলা এখন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলম দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে মারধরের খবর শুনে মামলা করতে পরামর্শ দিয়েছি।’
হরনি ইউনিয়নের প্রশাসক মুসফিকুর রহমান মোর্শেদ এ ব্যাপারে বলেন, ‘মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইমামকে পিটিয়ে সন্ত্রাসীরা গুরুতর অপরাধ করেছে। বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য চৌকিদার পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা চৌকিদারের কথা না শুনে বাল্যবিয়ের উদ্যোগ নেয়।’
হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের ইমামের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে মামলা হয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
