শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাণিজ্য মেলার বাইরে চাঁদা তুলছে ‘পুলিশ-আনসার’

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৭ পিএম

রাজধানীতে বাণিজ্য মেলার বাইরের প্রাঙ্গণে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ও আনসারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ ঘেঁষে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার সড়কটির দুই দিকের ফুটপাতের ওপর সারে সারে বসেছে কসমেটিকস, সিরামিক, জুতা, কাপড় ও ঘর সাজানোর সামগ্রীসহ নানা বাহারী পণ্যের সব দোকান।

এ ছাড়া মেলার প্রধান ফটকের সামনের ফুটপাতসহ আশপাশের সবগুলো সড়কের ফুটপাত জুড়েই হরেক রকমের টুকিটাকি পণ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের আনাগোনা।

এক ব্যবসায়ী ইমন জানান, মেলার ভেতরে স্টল নেওয়ার সামর্থ্য নেই তার। এ জন্য দৈনিক ১ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে এখানে ব্যবসা করছেন। চাঁদা কে নিচ্ছে? এমন প্রশ্নে পাশ থেকে নীরবের উত্তর, ‘হেইট্যা কওন যাইব না মামা’

তবে কারুপণ্যের দোকানি রহিম জানালেন, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা, পুলিশ ও আনসারসহ কয়েক জায়গায়  চাঁদা দিতে হয় তাদের। দোকান অনুপাতে চাঁদার পরিমাণও হয় ভিন্ন।

তিনি জানান, প্রতিদিন লাইনম্যান, পুলিশ ও আনসারকে চাঁদা দেন প্রায় ১২ শ টাকা।

এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর মেলার বাইরে কোনো দোকান নিয়ে বসতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগের দুই বছর মেলা শেষের দিকে গুলিস্তান, ফার্মগেটসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতে ব্যবসা করেন এমন দোকানিরা দোকান দিয়েছিলেন এখানে।

এবার প্রথমদিকে অনুমতি না পেলেও গত শুক্রবার থেকে দোকান বসানোর অনুমতি পেয়েছেন তারা।

মেলার বাইরে দোকান বসানো ও চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। সিটি করপোরেশন ও পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করে। এরপরও আপনি যেহেতু আমাদের নজরে এনেছেন আমরা তাদের বলব।’

পুলিশের চাঁদা নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে শের-ই বাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে ডিএমপির সাড়ে পাঁচ শ পুলিশ সদস্য সেখানে কাজ করছে। এর সবাই আমার থানার অধীনে নয়। আমার থানার কেউ চাঁদা নিচ্ছে এমন তথ্য আমার জানা নাই। তবে এ ঘটনা ঘটলে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত