সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফুটবলে সংস্কার চান আশীষ ভদ্র

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:২৪ এএম

তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবালের বাবা ইকবাল খানের প্রশিক্ষণে তখন চলত কেকেআরসি। চট্টগ্রামের এই ক্লাবের মাধ্যমে উঠে এসেছিলেন ফুটবলার আশীষ ভদ্র। ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় বিভাগ দিয়ে তার ফুটবল খেলা শুরু। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল লিগে কেকেআরসি চ্যাম্পিয়ন হয়। সে বছর বিজয়ের উন্মাদনায় কেকেআরসি দলের নাম পাল্টিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী দেওয়া হয়।

এরপর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান আশীষ। সেখানে ১৯৭৮ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে প্রথম ডিভিশন খেলেন। একই বছর ব্যাংককে অষ্টম এশিয়ান গেমস ফুটবল দিয়েই আশীষ ভদ্র জাতীয় দলে খেলা শুরু করেন। সেই থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সফলতা ও সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। দেশের ফুটবলের সুসময় দেখেছেন তিনি। এখন দুঃসময়ও দেখছেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও আশির দশকের জনপ্রিয় ফুটবলার আশীষ ভদ্র একান্ত আলাপচারিতায় দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশব্যাপী ফুটবলার তৈরির কালেকটিভ সিস্টেমটাই যুগোপযোগী নয়, তা সংস্কার করতে হবে। তাহলেই ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তা ও অতীতের স্বর্ণালি দিন আবারও ফিরে আসবে। এই মুহূর্তে ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের যুগোপযোগী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।’

আশীষ ভদ্র মনে করেন ক্রিকেট নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কিছু কাজ হচ্ছে। কিন্তু ফুটবলের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। ফুটবলার তৈরি করতে হলে প্রথমে কোচকে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের ওপর মনিটরিং ব্যবস্থাকে আপডেট করতে হবে। দেশে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড ডিভিশন ও প্রিমিয়ার লিগ সবই হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে না।’ ফুটবল খেলার সফলতা পেতে হলে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে জানিয়ে জাতীয় দলের সাবেক কৃতী এ মিডফিল্ডার বলেন, ‘সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, যারা খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তাদেরও প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তারা যদি আপডেট না থাকেন, তাহলে তো সামনের দিকে এগোনো যাবে না। বিশেষ করে চট্টগ্রামে খেলোয়াড় তৈরির জন্য সিজেকেএসের ওপরই আমাদের ভরসা। এই সংস্থার সভাপতি পদে ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। যার বদান্যতায় খেলাকে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’ পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাবগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন এ তুখোড় ফুটবলার।

কথা প্রসঙ্গে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন দেশসেরা এই মিডফিল্ডার। আশীষ ভদ্র দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘ইনজুরির কারণে ডাক্তারের পরামর্শে ফুটবল খেলাকে গুডবাই জানিয়েছি। মনে হয়েছিল ইনজুরি সাময়িক। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে আর মাঠে নামা হয়নি। এজন্য ফুটবল মাঠ থেকে আমার আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়াও হয়নি। ফুটবল থেকে এমন বিদায়ের মর্মবেদনা আমাকে আজও কাঁদায়।’ ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলের হয়ে অনেক গোল আছে তার। খেলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে জাতীয় পুরস্কারও পান আশীষ ভদ্র।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত