রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খুঁড়িয়ে চলছে ফেনীর ১৯ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৭ পিএম

জনবল ও ভবন সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও প্রান্তিক জনপদের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল ফেনী জেলার ১৯টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদ থাকলেও এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেই কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, পিয়ন অথবা আয়া।

জানা যায়, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বিনামূল্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি সেবা ও রক্ত, মলমূত্র ও কফ পরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী সাধারণ ও মেজর অপারেশন করা, বিনামূল্যে শিশুদের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান এবং সরবরাহ সাপেক্ষে বিনামূল্যে ওষুধ ও পথ্য বিতরণ করা হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও প্রয়োজন মোতাবেক কোনো রোগীকে উন্নত সেবা পেতে উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। নিয়ম মোতাবেক এ সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন আয়া থাকার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ১৯টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯ জন এমবিবিএস চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা। কিন্তু ফেনীর শর্শদী ও কালীদহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়া ১৭টি কেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসক কর্মরত নেই। ওইসব কেন্দ্রে ডিপ্লোমাধারী অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) দিয়েই চলছে সেবা প্রদান। একইভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন ফার্মাসিস্ট থাকার কথা থাকলেও জেলাজুড়ে শুধুমাত্র সদর উপজেলার ফাজিলপুর কেন্দ্রে একজন কর্মরত আছেন। বাকি ১৮টিতে কোনো ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অথবা পদায়ন করা হয়নি। জেলার কোনো সেন্টারে পিয়ন অথবা আয়া না থাকায় প্রায় সব সময়ই অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশ বিরাজ করে।

এ ছাড়াও কেন্দ্রগুলোতে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি, অনেক কেন্দ্রে এখনো যুক্ত হয়নি স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির ব্যবস্থা, নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ। এত সমস্যার পরও প্রান্তিক জনপদে সাধ্যের মধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কর্মরত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা।

সরেজমিনে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত, অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভুতুড়ে ভবনে আগতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে তিনজন সেবা প্রার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপিচেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। শিগশিরই কাজ শুরু হবে। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো মানুষকে সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন হাসান শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৫ থেকে ২০ বছর যাবৎ ফার্মাসিস্ট, পিয়ন নিয়োগ বন্ধ। এখন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক দেওয়া যাচ্ছে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত