শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৪ পিএম

মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক যেসব উপাদান রয়েছে, তার বেশিরভাগই নেতিবাচক। তাহলে প্রবৃদ্ধি এত বাড়ল কীভাবে? একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে এ বিষয়টা আরেকটু ভাবতে হবে বলে মনে করি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও কাক্সিক্ষত হারে হয়নি, সেভাবে বাড়েনি রপ্তানি আয়ও। তাহলে দেশের অভ্যন্তরে কোন খাতে ব্যাপকহারে উৎপাদন হওয়ার কারণে জিডিপিতে এই প্রবৃদ্ধি হলো? আসলেই কি কোন খাতে এত বেশি উৎপাদন হচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে জিডিপির এই প্রবৃদ্ধি কীভাবে অর্জিত হচ্ছে?

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘এসডিজি বাংলাদেশ প্রগ্রেস রিপোর্ট-২০১৮’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, ইউএনডিপির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধে দেখা যায়,  লক্ষমাত্রার তুলনায় গড় প্রবৃদ্ধি, লিঙ্গ সমতা,  রাজস্ব আহরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং রেমিটেন্স ও কর্মসংস্থান হয়নি। ড. শামসুল আলমের উপস্থাপনা করা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাত,  বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বেকারত্বের হার কমানো, তরুণদের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও লক্ষমাত্রার অনেক পেছনে বাংলাদেশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বেশ কিছু সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের তুলনায় ভালো। তবে আমাদের নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যের কিছুটা ঘাটতি আছে। সেজন্য বিবিএস ও তথ্য প্রদানকারী সংস্থাগুলোতে সংস্কার আনা হবে। সব ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের অর্থ কার্যকর ব্যবহারের চেষ্টা থাকবে। ড. মসিউর রহমান বলেন, জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব বাড়াতে হবে। বৈদেশিক সহায়তার পাইপলাইনের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প খাতে বেশ কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দ্রুত সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন।শামসুল আলমের উপস্থাপন করা এসব তথ্যের সূত্র ধরে মূল আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সে হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। এছাড়া বৈষম্যও বেড়ে যাচ্ছে। এই বৈষম্য নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। নয় পরে এটি অনেক ভোগাবে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনমিতি সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মহীনতা কমাতে হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে স্বল্প খরচে উদ্ভাবনী বিষয়গুলো জাগ্রত করতে হবে। পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি ও আয় বৈষম্য কমাতে হবে। তাহলেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন দ্রুত হবে।

মিয়া সেপ্পো বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অর্জন হলেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশ। আয় বৈষম্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম। এ ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার পর্যাপ্ততার অভাব রয়েছে। মধ্য আয়ের দেশে পৌঁছতে হলে সুশাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল নীতিতে আনা প্রয়োজন। নজিবুর রহমান বলেন, এসডিজির বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এটি অর্জনে সব ধরনের নীতি সহায়তা দিচ্ছেন। এজন্য ব্যাপক কার্যক্রম ও পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত