বাদ পড়ার শঙ্কা দূর করে শেষ মুহূর্তে সেরা চারে পা রেখেছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে পেয়েছিল প্রতিপক্ষ হিসেবে। যে দলের বিপক্ষে আবার লিগ পর্বে দুইবারের দেখাতেই হারের স্মৃতি। তবে শেষ চারের প্রথম ‘নক আউট’ ম্যাচে চিটাগং জুজু জয় করল ঢাকা। চিটাগংকে ছিটকে দিয়ে সাকিব আল হাসানের দলটি জায়গা করে নিল কোয়ালিফায়ার ম্যাচে।
সোমবার এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগংকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুশফিকুর রহিমের দলকে কম রানেই আটকে রেখেছিল সাকিবের দল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি দলটি। জবাবে ৩.২ ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে হেসে খেলে জয় ঢাকার।
ঢাকা এখন খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। এদিন সন্ধ্যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হচ্ছে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জয়ী দল চলে যাবে ফাইনালে। হারা দলের থাকবে আরেকটি সুযোগ। সেই হারা দলটিই বুধবার ঢাকার বিপক্ষে খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। সেখানে যে দল জিতবে তারা পাবে ফাইনালের টিকিট।
ঢাকার জয়ে ব্যাটে বলে আলো ছড়ালেন ক্যারিবিয়ান তারকা সুনিল নারিন। বল হাতে সর্বাধিক ৪ উইকেট নিয়ে চিটাগংকে বেঁধে রাখলেন কম রানে। পরে ১৩৬ রানের লক্ষ্যে ওপেনিংয়ে নেমে তুললেন ছড়। ১৬ বলে ১ ছক্কা ও ৬ চারে ৩১ রান করে দলের রানের চাকা সচল করে দেওয়ার আসল কাজটা করে দিলেন। আরেক ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ফিফটি তুলে নিলে হেসেই খেলেই জয় ঢাকার।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা চিটাগং শুরু থেকেই সুবিধা করতে পারেনি। দলীয় ২২ রানে ইয়াসির আলি (৮) বিদায় নেন। তাকে শিকার বানান রুবেল হোসেন। ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ভালো খেলছিলেন। কিন্তু এই দক্ষিণ আফ্রিকান ২৭ বলে ৩৬ রান করে কাটা পড়লেন রান আউটে।
এরপর মুশফিক ৮ রান করে বোল্ড হন নারিনের বলে। ২৪ রান করা সাদমানকেও ফিরিয়ে দেন ক্যারিবিয়ান স্পিনার। তাতে ৮১ রানে ৪ উইকেট হারায় চিটাগং। আগের দিন অনুশীলনে চোট পাওয়া মোসাদ্দেক এরপর দলকে টানলেন একা। কিন্তু অন্য প্রান্তে তাকে সহায়তা করতে পারলেন না কেউই।
সানাকা ৭ রান করে কাজী অনিকের বলে বোল্ড হন। চোট কাটিয়ে চিটাগংয়ের একাদশে ফেরা রবি ফ্রাইলিঙ্ক ও হার্ডাস ভিলজোয়েনকে একই ওভারে নারিন ফিরিয়ে দেন। একা লড়াই করে মোসাদ্দেক শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন। ৩৫ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৪০ রান করেন তিনি।
এরপর নারিনের ব্যাটে দাপুটে শুরু ঢাকার। নারিন ৩১ রান করে বিদায় নিলেও থারাঙ্গা ফিফটি তুলে নেন। চিটাগংয়ের বোলারদের চতুর্থ শিকার হয়ে যখন ফেরেন ততক্ষণে ঢাকার জয় নিশ্চিতই হয়ে গেছে বলতে গেলে। ৪৩ বলে ৭ চারে ৫১ রান করেন এই লঙ্কান। তাকে ফিরিয়ে ছিলেন নাঈম হাসান। এর আগে রনি তালুকদার ২০ রানে ফেরেন খালেদ আহমেদের শিকার হয়ে। ঠিক পরের বলেই খালেদকে বোল্ড করেন সাকিবকে। চিটাগংয়ের পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন খালেদ আহমেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগং ভাইকিংস: ১৩৫/৮ (২০ ওভার) (ডেলপোর্ট ৩৬, সাদমান ২৪, মোসাদ্দেক ৪০; নারিন ৪/১৫)
ঢাকা ডায়নামাইটস: ১৩৬/৪ (১৬.৪ ওভার) (থারাঙ্গা ৫১, নারিন ৩১, রনি ২০, নুরুল ২০*; খালেদ ৩/২০)
ফল: ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: সুনিল নারিন।
