রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলেন জাহালম

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:০৪ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুলে বিনা দোষে প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া জাহালম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

রোববার রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে পাটকল শ্রমিক জাহালমকে মুক্তি দেওয়া হয়। জাহালম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবুড়িয়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। বৃদ্ধা মাসহ তিন ভাই ও তিন বোনের পরিবার তাদের।

কারামুক্তির পর বড় ভাই শাহানুর মিয়ার সঙ্গে ভোররাত ৪টায় গ্রামের বাড়িতে আসেন জাহালম। কারামুক্ত জাহালমকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পরে মা মনোয়ারা বেগম। আক্ষেপ করে বলেন, ‘কার মাথায় বাড়ি দিছিলাম যে আমার এত বড় সর্বনাশ করল।’

এ সময় আহাজারি করেন জাহালমের ভাইবোন ও স্বজনরাও। কারামুক্ত জাহালমকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তোলেন মা মনোয়ারা বেগম।

জাহালমের ফিরে আসার সংবাদে সোমবার সকাল থেকেই তার বাড়িতে ভিড় করে স্থানীয়রা। সংবাদকর্মীরাও ভিড় করে জাহালমকে ঘিরে। দীর্ঘদিন পর বাবার কোলে ফিরে খুশি জাহালমের সাত বছর বয়সী মেয়ে চাঁদনি।

জাহালম সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৩ সাল থেকে আমি নরসিংদী থাকতাম। সেখানে চাকরি করতাম, বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকতাম। মাঝে মাঝে ছুটিতে বাড়ি আসতাম। সেখান থেকে একদিন আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বলেন, ‘ভাইগনা, এলাকায় আসো, তোমার নামে একটা মামলা হইছে।’ আমি বলি, ‘আমার নামে তো কোনো মামলা-টামলা নেই।’ তখন তিনি বলেন, ‘না, মনে হয় আছে, তুমি এলাকায় আসো।’

বাড়িতে যাওয়ার পর তিনি আমাকে একটা লোকের ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই ছবি কি তোমার?’ আমি বলি, ‘না এইটা তো আমার ছবি না। তখন তিনি বলেন, ‘কিন্তু চেহারা তো একরকমই দেখা যায়, সবাই বলে।’

তখন আমি বলি, ‘চেহারা প্রায় এক হলেও এইটা আমার ছবি না। আমি পড়ালেখা জানি না, কোনদিন টাই-টুই পরেও ছবি তুলি নাই।’

 

জাহালম আরো বলেন, “এরপর আমি আবারও কাজে চলে যাই। তার ক’দিন পর দুদক আমার বাড়িতে চিঠি পাঠায়। আমি সেগুনবাগিচায় দুদকের অফিসে যাই। সেখানে যাওয়ার পর তারা আমাকে একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই ছবিটা দেখছেন? এই ছবিটা আপনার।’ তখন আমি বলি, জি না স্যার, এই ছবিটা আমার না।’ তখন তারা একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ছবি দেখায়। তখন উনাদের বলি, স্যার আমি তো জীবনেও কোন অ্যাকাউন্ট করি নাই। পরে আমি তাদের আমার আইডি কার্ড দেখাই। আমার চাকরির কাগজপত্র দেখাই। উনারা সেগুলোর ফটোকপি রাখে। এভাবেই আমার জীবন থেকেই গত তিনটা বছর নাই।

এ সময় জাহালম বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, আমি তিনটা বছর বিনা অপরাধে জেল খাটছি। এই তিনটা বছর আমারে কেউ ফেরত দিতে পারবে না। কিন্তু এই তিনটা বছরের ক্ষতিপূরণ যেন আমারে দেওয়া হয়’।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। দুদকের ভুলে সালেকের বদলে বিনা দোষে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে নরসিংদীর পাটকল শ্রমিক টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

রোববার সোনালী ব্যাংকের ওই অর্থ জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে হাইকোর্ট তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। কারাগারে কাগজ পৌঁছানোর পর জেল সুপার তাকে মুক্তি দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত