মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাণিজ্যমন্ত্রী চলেন, হাত মেলাই

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪১ এএম

দুই মাস আগে ঢাকায় আসা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার দেখা করলেন মাসখানেক আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া টিপু মুনশির সঙ্গে। হাতে হাত রেখে সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিলেন দুই দেশের রাজনীতিক ও কূটনীতিক।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বরার্ট মিলার। ওই সময় টিপু মুনশি তাকে বলেন, ‘আমিও নতুন, আপনিও নতুন। চলেন, দুজনে হাত মেলাই।’

বরার্ট মিলার বলেন, তিনি বাংলাদেশের জন্য একজন ভালো সেলসম্যান হতে পারবেন। আধা ঘণ্টার একান্ত বৈঠক শেষে দুজনই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তার সঙ্গে প্রথম দেখা হলো, পরিচয় হলো। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশ কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। কিন্তু বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ১৭০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে রপ্তানি বাড়াতে চায়।

তিনি বলেন, ‘সে পরিপ্রেক্ষিতে বলেছি, আমেরিকার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে তাদের জন্য সহজে ব্যবসা করার পথ তৈরি করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে তারা নিজ দেশ ও অন্যান্য দেশে রপ্তানি করতে পারবেন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নিয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের খরচ বেড়েছে। ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এজন্য রাষ্ট্রদূত যাতে তাদের ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়াতে বলে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জিএসপি নিয়ে কথা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জিএসপি পাওয়ার বিষয়ে তিনি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার যেসব ব্যবসায়ী দিল্লি এসে ঘুরে যান, রাষ্ট্রদূত তাদের বাংলাদেশে ডাকতে চেয়েছেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর নেই। সেটা নিয়ে কথা হয়েছে, উনি বলেছেন খুব শিগগিরই এর ব্যবস্থা হবে। আমরা দুজন একসঙ্গে কাজ করে বাণিজ্য বাড়াতে চাই।’

 

টিপু মুনশি বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে খুব ইতিবাচক চিন্তার মানুষ মনে হয়েছে। দুজন একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নত হবে। কেমন করে ব্যবসা বাড়ানো যায়, কেমন করে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ যেন আসে সেই চেষ্টা করবেন বলে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।’

 

টিকফা চুক্তি থেকে কী পাওয়া গেছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নকে বরার্ট মিলার ‘গুড কোশ্চেন’ বললেও কোনো উত্তর দেননি। আর বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, ‘একেবারে কিছু হয়নি তা নয়। বাংলাদেশে আমেরিকার বিনিয়োগ বেড়েছে। অবকাঠামোসহ নতুন অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে।’

 ওই সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘টিকফা থেকে কিছু অর্জন আছে। তবে সেটা ধীর।’

রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী ও আমি কাছাকাছি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটা ভালো সুযোগ হবে। শ্রমিক ও কারখানার নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এস এম রেদওয়ান হোসেন, রপ্তানি শাখার অতিরিক্ত সচিব শরিফা খান উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত