উপজেলা নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধীর ছেলের হাতে নৌকা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:১৬ পিএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ‘রাজাকারপুত্র’ সৈয়দ ওসমান গণি বাবু।

মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা এবং পাক হানাদার বাহিনীদের প্রত্যক্ষ সহায়তার কারণে মুক্তিযোদ্ধারা তার বাবা সৈয়দ মুহাম্মদ ইলিয়াছকে হত্যা করে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড প্রকাশিত ‘মুক্তি’ স্মরণিকায় স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় ১০নং ক্রমিকে ওসমান গণির বাবার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে ইলিয়াছের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধাকালীন ফটিকছড়ির বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট) প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘মহান মুক্তিসংগ্রামে বিরোধিতার কারণে রাজাকার ইলিয়াছকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছিল। সে একজন কুখ্যাত রাজাকার।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ফটিকছড়ি উপজেলা শাখার সাবেক কমান্ডার আহমদ ছাফা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসমান গণি বাবুর পুরো পরিবারই রাজাকার পরিবার। তার বাবা রাজাকার ইলিয়াছ ও তার ভাইয়েরা মুক্তিসংগ্রামের বিরোধিতা করেছিল। পরে তারা রাজাকার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বনে যায়।’

মুক্তিযুদ্ধকালীন ফটিকছড়ি উপজেলা বিএলএফ কমান্ডার সৈয়দ শরফুল হাসান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর দালালি করেছিল ইলিয়াছ। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা তাকে হত্যা করে। ইলিয়াছের চার ছেলে শওকত হায়াত জুবিলি, সৈয়দ ওমর ফারুক ও সৈয়দ আব্দুল্লাহ হারুন ও ওসমান গণি বাবু স্বাধীনতার ঘোষক এম.এ হান্নানের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে চেয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা ফটিকছড়িতে প্রথম যে দালালকে সে সময় হত্যা করেছিল, সে হলো ইলিয়াছ’।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ সালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা জানতাম না। ইউনিয়নের তৃণমূল যে তালিকাটা দিয়েছে, সেটা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।’

এ ব্যাপারে নানুপুরের বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ তাইফুর হাসনাইন বলেন, ‘বীর বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা একজন রাজাকার ছেলের হাতে, এটা মেনে নেয়া যায়। আমরা চাই আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।

জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সৈয়দ ওসমান গণি বাবু। ১০ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।’

২০১১ ও ২০১৬ সালে সীমানাসংক্রান্ত জটিলতায় ফটিকছড়ির ১৪নং নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দেড় যুগ পর ২২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এর তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত