বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিএসএফ সীমান্তে হত্যা করছে না: বিজিবি প্রধান

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৩ পিএম

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশ সীমানায় হত্যা করছে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‘সীমান্তের শূন্যরেখা বা ২০০ গজের মধ্যে কাউকে হত্যা করলে তা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড হবে। তবে ভারতের অনেক ভেতরে গিয়ে কেউ গুলিতে বা পিটুনিতে মারা গেলে তা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নয় বরং বলা যায় সাধারণ হত্যাকাণ্ড’।

বুধবার বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রমকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত ‘সীমান্ত ডাটা সেন্টার’ উদ্বোধন শেষে ডিজি সাংবাদিকদের এসব বলেন।

সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘চলতি বছর সীমান্তের ওপারে আট বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছে। তারা কেউ শূন্যরেখার ২০০ গজের মধ্যে মারা যায়নি। বরং নিহত হয়েছে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে’।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের নাগরিকরা আত্মীয়তা বা অন্য কারণে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যায়। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা কোনো অপরাধ সংগঠনের কারণে তারা নিহত হচ্ছে’।

এক প্রশ্নের জবাবে সাফিনুল ইসলাম বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে যেসব হত্যা হয় তা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নয় বরং পেটি ক্রাইম। এসব হত্যা হওয়ার পর বিএসএফের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। বিএসএফ প্রধানের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমি তাদের বলেছি আপনারা তো ননলিথেল (প্রাণঘাতী নয় এমন) অস্ত্র ব্যবহার করা কথা। কিন্তু আপনারা লিথেল কেন ব্যবহার করছেন। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি দেখবেন। ‘সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্য যারা আছেন তাদের আরও সতর্ক করবেন।

তিনি আরো বলেছেন, বিএসএফের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। নতুন ইউনিটের সদস্য এসে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে সময় লাগছে। প্রতিটি ঘটনার পর আমরা বিএসএফের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনতে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব জায়গায় শুধু বিএসএফই গুলি করে না মাঝে মাঝে খাসিয়া উপজাতিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করে।

তিনি আরো বলেছেন, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনতে অবৈধভাবে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ জরুরি।

বিজিবি প্রধান বলেছেন, শীতকালে কুয়াশাজনিত কারণে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার বেড়ে যায়। কিছু বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া কেটে দেয়। এসবের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয় এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। সীমান্ত হত্যা কমাতে আমরা বেশ কিছু সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। তাদের সচেতন করে তোলার জন্য বিভিন্ন কাজ করেছি।

এর আগে মো. সাফিনুল ইসলাম বিজিবির ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সীমান্ত ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহসীন রেজা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।  

বিজিবিতে প্রথমবারের মতো স্থাপিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ডাটা সেন্টার সংস্থাটির অভিযানকারী এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে বলে জানান বিজিবিপ্রধান।

তিনি জানান, সীমান্ত ডাটা সেন্টার থেকে নিজস্ব ওয়েবসাইট হোস্টিংসহ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এক্সচেঞ্জ সার্ভিস, বিজিবি’র নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য রিক্রুটিং সার্ভিস, অডিও ও ভিডিও কনফারেন্স সার্ভিস এবং ডিএমআর। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারিসহ যোগাযোগের জন্য রয়েছে বর্ডার সার্ভেল্যান্স সিস্টেম, পেট্রল ট্র্যাকার সিস্টেম, বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস, বিজিবি মেইল সার্ভিস, অ্যাকটিভ ডিরেক্টরি ইত্যাদি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত