বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া গৃহকর্মী জানালেন বর্বর নির্যাতনের কথা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:১৩ পিএম

চাকরির প্রলোভনে বাড়ি থেকে এনে এক নারীকে দু’মাস আটক করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথা মত কাজ না করায় ষাড়াস দিয়ে ৪টি দাঁত, হাত ও পায়ের নখ তুলে নেওয়া হয়। পায়ের রগ কেটে ফেলে এবং গরম পানি ঢেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ঝলসে দেওয়া হয়।

নোয়াখালী পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা নারীর বড় ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে সুধারাম থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এ মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার  করা হয়েছে চার ব্যক্তিকে। নির্যাতিতা নারী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মামলার বাদী জাকির হোসেন জানায়, চার মাস পূর্বে হাতিয়া উপজেলার পূর্ব ফরিদপুর গ্রামের বুলবুলের স্ত্রী রিনা আক্তার তার বোন রাহেনা আক্তার (২৯) কে চৌমুহনী গ্লোব কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। সেখানে চাকরি না দিয়ে নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার চন্দ্রপুর গ্রামে মিজানুর রহমানের বাসায় মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজ দেয়।

দু’মাস কাজ করার পর বাসার গৃহস্বামী মিজানুর রাহেনাকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। বাসার গৃহকর্ত্রী রীনা আক্তার তাকে সন্দেহ করতে শুরু করে এবং মাঝে মধ্যে মারধর করে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। তখন রাহেনা আর কাজ করবে না বলে তার বেতন দাবি করলে রাহেনাকে মারধর করে এবং ষাড়াসী দিয়ে রাহেনার হাত পায়ের নখ এবং ৪টি দাঁত তুলে ফেলে। রাহেনা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তার পায়ের রগ কেটে ফেলে বাসার স্টোর রুমে আটক করে রাখা হয়। এরপরের দিন গরম পানি করে রাহেনার শরীরে ঢেলে দিলে তার মুখ, গলা, বুক, পেট, দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়।

এভাবে টানা নির্যাতনে রাহেনা অচেতন হয়ে পড়লে বুলবুল এবং রীনা তাকে মৃত মনে করে রাতের অন্ধকারে মাইক্রোবাস যোগে চট্টগ্রাম কালুরঘাট ব্রিজের নিচে ফেলে আসে। দিনের বেলায় তার জ্ঞান ফিরে এলে ভাই জাকির হোসেনের কাছে মোবাইলে খবর পাঠায়। কালুরঘাট থেকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সাইফুল আলম জানান, আসামি রীনা আক্তার, মিজানুর রহমান, আলেয়া বেগম ও শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, চার আসামির প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

নোয়াখালী নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী সাহিদা চৌধুরী এ নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির জন্য মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে করার জন্য দাবি জানান। পাশাপাশি নির্যাতিতার চিকিৎসা সহায়তা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত