রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাটুরিয়ার মন্নু আশ্রয়ণ প্রকল্প

সুবিধা না পেয়ে চলে গেছেন বিত্তবানরা, ঘর ফাঁকা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৭ পিএম

‘দরিদ্রদের বদলে সচ্ছলদের হাতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের চাবি ওঠায় তিন-চার মাসের মধ্যেই অধিকাংশ ঘর ফাঁকা হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার মন্নু আশ্রয়ণ প্রকল্পের। ৭০টি ঘরের বিপরীতে আবেদন করেন ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ। সরকার ঘর দিচ্ছে। খাবার এবং বিভিন্ন সময় সরকারি সাহায্য পাওয়া যাবে এমন আশায় যাদের ঘর-দুয়ার ছিল, তারাও ভিড়েন এই আশ্রয়ণে। কিন্তু ঘর ছাড়া কিছু না মেলায় দু-তিন মাস পরই সব ঘর ফাঁকা হতে শুরু করে। ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন মন্নু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এখনো টিকে থাকা জবেদ আলী।

জবেদ আলী বলেন, ‘আমি এ ঘরে ১৭ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছি। যাদের প্রকৃত ঘরদোর নেই এবং নদীতে বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাওয়ার পর নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মাত্র ১৩টি পরিবার এখানে কোনোরকমে বসবাস করছে। ১৭ বছরে আর কেউ আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি।’ 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের বরাইদ গ্রামে ২০০২ সালে ১ দশমিক ৬৫ একর ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী মো. হারুনার রশিদ খান মন্নু তার নিজ নামে এটি নির্মাণ করে দেন। ৭০ কক্ষের সাতটি বড় ব্যারাক তৈরি করা হয়। আধা পাকা এ প্রতিটি ব্যারাকের সঙ্গে ১০ পরিবারের জন্য চারটি টয়লেট ও একটি পাকা টিউবওয়েল তৈরি করা হয়। দেখা যায়, সাতটি ঘরে মাত্র ১৩ পরিবার বসবাস করছে। অধিকাংশ ঘরের আশপাশে আগাছায় ভরে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ টিনের চাল নষ্ট হয়ে গেছে।

এ প্রকল্পের ঘরে থাকা সোনা মিয়া (৪৫) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৭ বছর আগে এখানে উঠছি। মানুষ কত বদলায় রোগ ধরে। অথচ আমাগ ঘরের কোনো সংস্কার পর্যন্ত হয়নি। বৃষ্টির দিনে পোলাপান নিয়া জাইগা থাকি। টিনের ফুডা দিয়া পানি পড়ে।’ প্রকল্পটি নদীর পারে ও বরাইদ ও তিল্লি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থান। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন পারভীন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর মেরামত করার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। উপজেলা প্রকৌশলীকে এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প তৈরি করে বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাতে বলেছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত