শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, থামাতে গিয়ে পা গেল প্রতিবেশীর

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:১৫ এএম

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বড়ভাই আবদুল গণির দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ছোট ভাই আবদুল বারী (৫০) নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মীমাংসা করতে গিয়ে রাম দা’র আঘাতে পা হারিয়েছেন প্রতিবেশী আবদুল খালেক নামের (৫৫)।

চিরিরবন্দর উপজেলার আবদুলপুর ইউনিয়নের বানীযুগী গ্রামের মঙ্গলবারের এ ঘটনায় আহত আবদুল বারী শুক্রবার সকালে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

নিহত আবদুল বারী বানীযুগী গ্রামের রহিম শাহ পাড়ার মৃত ধনিবুল্লার ছোট ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই ভাইয়ের মারামারি মীমাংসা করতে গিয়ে আবদুল গণির ছেলে আবদুল কুদ্দুসের রাম দা’র আঘাতে আবদুল খালেকের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এছাড়াও আরও তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারেসুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গ্রামবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আবদুল গণি ও আবদুল বারীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আদালত থেকে প্রায় ছয় একর জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।

কিন্তু আদালতের রায় উপেক্ষা করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আবদুল গণি ও তার ছয় ছেলে এবং চার মেয়েকে নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে হালচাষ করতে গেলে তার ছোটভাই আবদুল বারী আদালতের রায় নিয়ে জমিতে আসতে বলেন এবং হালচাষে বাধা দেন।

আবদুল বারী বাধা দিতে গেলে ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে আবদুল গণি ও তার ছেলেমেয়েরা আবদুল বারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত মারে।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড় ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লাশ ময়নাতদন্তের  জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম  হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। মামলা নং-৩/১৯।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ওসি মো. হারেসুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আসামিদের ধরার জন্য আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত