শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

১০ বছরে কিছুই করতে পারেনি বিএনপি: মওদুদ আহমদ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:০৬ পিএম

বিএনপি গত ১০ বছরে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে কিছু করতে পারেনি বলে আক্ষেপ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেছেন, দুটি কারণে আমরা নির্বাচনে (একাদশ) গিয়েছিলাম, আশা ছিল মানুষ ভোট দিতে পারলে আমরা জয়ী হব। আর সেদিন আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করব। আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই করতে পারিনি। আন্দোলন করতে হলে সংগঠন লাগে। গত ১০ বছর অনেক কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কী দেখলাম, মনে হয় কিছুই করা হয়নি।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্রের মা বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশব্যাপী বিএনপির বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে’ বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনের আগে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে সরকার বিএনপির একটি দাবিও মানেনি। তখন পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা ছিল। নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তারপরও বিএনপি কেন নির্বাচনে গিয়েছিল?

এই বিএনপি নেতা বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তাহলেই আন্দোলনের মাধ্যমে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা যাবে।

মওদুদ আহমদ বলেন, তৃণমূল থেকে দল পুনর্গঠন কতে হবে। যারা খালেদা জিয়ার জন্য সংগ্রাম করেছে তাদের ওপরে জায়গা দিতে হবে। দল পুনর্গঠন করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার মামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলায় সরকারের কূটকৌশলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। রেওয়াজ অনুযায়ী এ মামলার জামিনের ফাইল সাবমিট করলেই তা মঞ্জুর হয়ে যায়।

বিগত নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন এমন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রার্থীদের উচিত হবে, যারা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসিম হোসাইন, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, মো. আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত