শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তায় মিয়ানমারের ১৬০ বৌদ্ধ নাগরিক

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:০০ পিএম

নিজের দেশে সশস্ত্র সংঘাতের আতঙ্ক অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তে কঠোর নজরদারি- এই দুইয়ের মাঝেই আটকে আছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১৬০ বাস্তুচ্যুত বৌদ্ধ নাগরিক। বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইংক্ষ্যং পাড়ার কাছে অস্থায়ী ছাউনিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন কাটছে তাদের।

চাইংক্ষ্যং পাড়ার লোকজন জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় এখনো তীব্র শীত। মিয়ানমার থেকে আসা লোকদের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এই শীতেও খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। দলটিতে কয়েকজন প্রসূতি নারীও আছেন। বৃহস্পতিবার এক রাখাইন নারী সেখানে সন্তান প্রসব করেছেন। আরও দু’জন গর্ভবতী নারীর দু-এক দিনের মধ্যেই সন্তান জন্ম হবে।

চাইংক্ষ্যং পাড়ার কৃষক থোয়াইগ্য মারমা জানান, মিয়ানমারের লোকদের মধ্যে কেউ কেউ পাড়ায় এসে ওষুধপত্র খোঁজ করছে। তাদেরকে যে যা পারছে ওষুধপত্র ও খাবারদাবার দিয়ে সাহায্য করছে। সংগ্রহ করা চাল-ডাল নিয়ে তারা সেখানে রান্না করে খাচ্ছে।

রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বম জানান, আমরা প্রশাসনকে এসব মানুষের তালিকা তৈরিতে সাহায্য করেছি। তবে তারা কতদিন থাকবে বা কবে যাবে সে ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।

জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত এলেই এসব লোককে নিজেদের দেশে পুশব্যাক করা হবে। তাদেরকে মানবিক কারণে চাইংক্ষ্যং পাড়াবাসীর কাছ থেকে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত গত সপ্তাহের শুরুতে মিয়ানমারের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে সেই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘাতের জেরে আতঙ্কিত হয়ে দেশ ছাড়তে শুরু করে সেই দেশের সীমান্তবর্তী প্লাটোয়া এবং ক্যান্টালিন এলাকার কিছু মানুষ। গত রবিবার থেকে তারা বাংলাদেশ সীমান্তের শূণ্যরেখায় অবস্থান নেয়। এলাকাটি বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইংক্ষ্যং পাড়ার কাছে। এ ঘটনার পর তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত সিল করে দেয় বিজিবি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত