মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এবার ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে দেশটির অধিকাংশ জনগণের বাইরে স্তম্ভিত হয়েছে বিশ্ববাসীও। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল ভারত। দেশটির কট্টর জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় উগ্রপন্থী অংশ ট্রাম্পের বিজয়ের জন্য পূজা দিয়েছিল এবং বিজয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল।

তবে ট্রাম্পের শাসনের প্রতি তাদের মোহ ভাঙতে বেশ দেরি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি এবং ভারতীয়দের ওপর হামলার ঘটনায় আশাহত হয়েছিল ট্রাম্প সমর্থক এই গোষ্ঠীটি।

এবার রয়টার্সের বরাত দিয়ে আরও বড় দুঃসংবাদ দিচ্ছে এনডিটিভি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছে ভারত।

জিএসপি সুবিধার অধীনে শূন্য শুল্কে ৫৬০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির সুযোগ পেয়ে আসছিল ভারত। তবে দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি নিয়ে ওঠা বিতর্কের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

ভারত ১৯৭০ সাল থেকে এ সুবিধার সবচেয়ে বড় উপকারভোগী। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ভারত এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। দায়িত্ব নিয়েই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ভারতের উচ্চ শুল্কারোপের সবসময় সমালোচনা করে আসছিলেন ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি হাতে নেন। অন্যদিকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ স্লোগান দিয়ে দেশে বিনিয়োগ ফেরাতে তৎপর ট্রাম্প।

ই-কমার্স সংক্রান্ত নীতিমালার মাধ্যমে ভারত অ্যামাজন ডটকম ইনক এবং ওয়ালমার্টের ফ্লিপকার্টের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় দুদেশের মধ্যে। দ্রুত অগ্রসরমাণ এই অনলাইন মার্কেট ২০২৭ সাল নাগাদ ২০০ বিলিয়ন স্পর্শ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) ভারতের জিএসপি সুবিধা রিভিউ করেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা আসতে পারে।

“দুই পক্ষই ট্রেড প্যাকেজ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা চূড়ান্ত করতে পারেনি।”

একই সময় ‘ডাটা লোকালাইজেশন এবং ই-কমার্সের’ বিষয়টা আসায় কার্যত ‘পুরো বিষয়টিই ভেস্তে গেছে’ বলে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন।

রাজনীতি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত। তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনার কেবল এক-চতুর্থাংশ অর্জিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত