সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে সিজারে প্রসব, নজরদারি করবে সরকার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫১ এএম

ভারতে ব্যাপকহারে বেড়ে চলেছে ‘সিজার’ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার বাইরে সিজারের মাধ্যমে প্রসবের ক্ষেত্রে নজরদারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

আনন্দবাজার জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ গর্ভবতীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব হতে পারে।

কিন্তু দেশটির কেন্দ্রের সাম্প্রতিক হিসাব মতে, সরকারি মেডিকেল কলেজেই সিজারে হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। বেসরকারি হাসপাতালে সেটা ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

মায়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই চিকিৎসকদের একাংশের অভিমত।

কেন্দ্র তাই মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যের উপরে নজর রাখতে তৈরি ‘লক্ষ্য’ নামে একটি প্রকল্পেই সিজার অডিট পর্যবেক্ষণ করবে।

স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সরকারি মেডিকেল কলেজে সিজারে প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত রেফার এবং সংকটজনক অবস্থায় প্রসূতিকে ভর্তি করানো।

কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান আরতি বিশ্বাস বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ হল তৃতীয় স্তরের পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা জেলা স্তরের হাসপাতালের সংকটজনক রোগীকে পাঠানো হয় মেডিকেল কলেজে। প্রসূতির অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় সিজার হয়।’

স্ত্রীরোগ চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, জরুরি অবস্থায় একমাত্র চিকিৎসকই সিজারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বাছাইয়ের প্রশ্ন থাকলে সে-ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সিজারের ইতিবাচক দিক নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা আছে। অনেকেই মনে করেন, সিজার করলে কোনো শারীরিক কষ্ট নেই। পেশির সমস্যাও হবে না। কিন্তু স্বাভাবিক এবং সিজার দুই পদ্ধতিতেই প্রসবের কিছু সমস্যা রয়েছে। গর্ভবতীদের সেটা জানানো প্রয়োজন।

‘সিজারের আগে প্রসূতির অনুমতি নেওয়া আবশ্যিক করা জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রসূতির অনুমতি নেওয়া হয় না।’ বলেন চিকিৎসক মল্লিনাথ।

দেশটির স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের একাংশের মতে, স্বাভাবিক প্রসবেই চিকিৎসকদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রসূতির প্রসবযন্ত্রণার শুরু থেকে শিশু জন্মানো পর্যন্ত পুরোটাই চিকিৎসকের দায়িত্ব। সিজারে ৪০ মিনিটে প্রসব প্রক্রিয়া শেষ হয়। স্বাভাবিক প্রসবে তা হয় না। বেশি সময় লাগে। প্রসূতির সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তাই অনেক সময় চিকিৎসকেরাও সিজারে মাধ্যমে প্রসব করানোটাই পছন্দ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত