মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নওগাঁয় সরকারি টাকায় ব্যক্তিস্বার্থের কালভার্ট

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০৬ পিএম

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরকারি টাকায় ব্যক্তিস্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সচিব, মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

ওয়াজেদ আলী লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণ করে রাষ্ট্রের ৩১ লাখ সাড়ে ৮৩ হাজার টাকা অপচয় করা হয়েছে, যা চরম দুর্নীতি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’ অভিযোগ বলা হয়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের আওতায় উপজেলার সিংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিন্টুর মুরগির খামারের কাছে দিঘির খালের ওপর ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয়ে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এখানে কোনো জনস্বার্থ নেই বরং মিন্টুর মুরগির খামারে যাতায়াতের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে বদলগাছী-আক্কেলপুর পাকা সড়ক সংলগ্ন ৮ থেকে ১০টি বাড়ি নিয়ে হঠাৎপাড়ায় নয়নজলী খালের ওপর তালেবের বাড়ির কাছে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও একটি কালভার্ট। নির্মাণাধীন এই কালভার্টের মাত্র ১০ গজ পূর্বে এবং ২০ গজ পশ্চিমে আরও দুটি কালভার্ট রয়েছে। এই দুটি কালভার্ট দিয়ে হঠাৎপাড়ায় যাতায়াত করা হয়। বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হঠাৎপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সোহেল চাকরি করেন। তার বাড়ির সামনে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয়ে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কালভার্টটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটা অপ্রয়োজনীয় এবং কেবল ব্যক্তিস্বার্থসংশ্লিষ্ট। গত নভেম্বর মাসে কালভার্ট দুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিংপাড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিঘির খালের পাশে মিন্টুর একটি মুরগির খামার ও তার ভাইয়ের পুকুর রয়েছে। মুরগির খামারে কর্মরত লোকজন ছাড়া কেউ সেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে না।

বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল করিম ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামবাসীর স্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, উজালপুর গ্রামের মুরগির খামারের ওই মালিক খালের ওপর রাস্তা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়ে মাঠের ফসল নষ্ট হয়। এলাকার লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেখানে কালভার্ট নির্মাণের সুপারিশ করেন। আর হঠাৎপাড়ায় পশ্চিম দিকে যে কালভার্টটি রয়েছে সেটিতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে আরও একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম আলী বলেন, ‘দুটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে একটি অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি।’ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত