সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাত দশকেও স্বীকৃতি নেই

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:০১ এএম

ঢাকায় সালাম-বরকতের রক্ত ঝরার পর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতেই রাজশাহী কলেজ হোস্টেলে তৈরি করা হয়েছিল ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। রাজশাহীর ভাষাসৈনিকদের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ইট-কাদার এই স্তম্ভই দেশের প্রথম শহীদ মিনার। রাতভর নির্মাণের পর সকালেই তখনকার সরকারি নির্দেশে পুলিশ সেটি গুঁড়িয়ে দেয়। প্রায় সাত দশক পার হলেও প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে এটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। রক্তাক্ত একুশের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থাপনার অবিলম্বে স্বীকৃতি চেয়েছেন ভাষাসংগ্রামীসহ রাজশাহীর জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশের শহীদ মিনারটি প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও আন্দোলন শুরু করে। ঢাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, রফিক, জব্বারসহ কয়েক শহীদের খবর পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা রাতেই রাজশাহী কলেজ হোস্টেল এলাকায় শহীদ মিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সারা রাত ধরে ইট ও কাদা দিয়ে তৈরি করা হয় দেশের প্রথম শহীদ মিনার।’ স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সারারাত জেগে স্মৃতিস্তম্ভটি পাহারা দিই। পরদিন সকালে আমরা চলে গেলে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ছাত্ররা এর ছবি তুলে রাখে।’ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ভাষাসৈনিকদের অনেক দেরিতে হলেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সরকার দেশের প্রথম শহীদ মিনারটিকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেবে বলে প্রত্যাশা করি।’ রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা জাতীয় সংসদে এটির স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে কয়েক দফা বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজশাহী কলেজ কর্র্তৃপক্ষের উদ্যোগে এবং সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার সহায়তায় মুসলিম হোস্টেলের গেটের কাছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির স্থানটিতে ২০০৯ সালে একটি ফলক নির্মাণ করা হয়। এদিকে স্বীকৃতির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবির পক্ষে গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে অনলাইন ভোটিং। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এর সূচনা করেন। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী কলেজের মুসলিম হোস্টেলের সামনে এ-বক্লের পূর্ব দিকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই শহীদ মিনার গড়ে তোলে। এখনো এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। অনলাইন ভোটিং কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করা হবে।’ অনলাইন ভোটিংয়ে অংশ নিয়ে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাবর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান। তারা জানান, যে কেউ https://barendraexpress. com.bd/firstshahidminar লিঙ্কে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। মাসব্যাপী কার্যক্রমে জমা হওয়া অনলাইন আবেদন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত