শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিজের দেশে ফিরতে শুরু করেছেন মিয়ানমারের বৌদ্ধরা

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:০৮ পিএম

দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বৌদ্ধ নাগরিকরা। রোববার সকালে ৮টি রাখাইন পরিবারের ২৮ জন মিয়ানমারে তাদের নিজেদের এলাকার দিকে রওনা হয়েছেন বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যরাও চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিজিবি বলিপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সানভীর হাসান জানান, ‘বাংলাদেশের সীমান্ত সিল করে দেওয়ার পর অনুপ্রবেশের আর কোনো সুযোগ না থাকায় মিয়ানমারের নাগরিকরা নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন। বাকিরাও কয়েক দিনের মধ্যে চলে যাবেন- এমনই কথা হয়েছে।’

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় কোনো শরণার্থী থাকবে না। সরকারি সিদ্ধান্তে কাউকে যদি আশ্রয় দিতেই হয়, তাদেরকে কক্সবাজারের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে। যেমন রোহিঙ্গাদের রাখা হয়েছে। অন্য দেশ থেকে পার্বত্য এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং আশ্রয় নেবার কোনো সুযোগ নেই।’

জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের সীমান্তে কড়াকড়ি এবং নিজেদের দেশে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে- এমন খবর পেয়ে মিয়ানমারের নাগরিকরা ফিরে যেতে শুরু করেছেন বলে রুমার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইংক্ষ্যং পাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

চাইংক্ষ্যং পাড়ার ব্যবসায়ী চাইরাউ মারমা জানান, ‘রবিবার সকালে বেশ কিছু লোক চাইংক্ষ্যং পাড়ার সীমান্ত থেকে নিজের দেশের দিকে রওনা হয়েছে। তারা ২৫-৩০ জন হবে। অন্যরাও শুনছি চলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বার্মার (মিয়ানমারের) লোকেরা নিজেদের সাথে যেসব খাবারদাবার বহন করে এনেছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষও আর কয়দিন খাওয়াবে। গত দুই তিন দিন ধরে তাদের খাবার জোগাড় করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। যারা আছে তারাও তাড়াতাড়ি নিজের দেশে চলে গেলেই ভালো।’

প্রসঙ্গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমারের চিন রাজ্যের প্লাটোয়া ও ক্যান্টালিন অঞ্চলের ১৬০ জন বৌদ্ধ নাগরিক বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নেন। মিয়ানমারের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে সেই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের জেরে আতঙ্কিত হয়ে এসব নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার চেষ্টা করেন। এর পরপরই সরকারের উচ্চ মহল থেকে সীমান্ত সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা আর বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত