মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাবাকে লেখা চিঠি থেকে বেরিয়ে এলো আরেক মেগান!

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৩ পিএম

ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারির সঙ্গে মেয়ের বিয়েতে হাজির হননি রাজবধূ মেগানের বাবা টমাস মের্কেল। তাকে লেখা মেয়ে চিঠি রবিবার প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবামাধ্যম ডেইলি মেইল। মেগানের বিয়ে নিয়ে টমাসের সাক্ষাৎকার বিতর্ক তৈরি করেছিল। এতে রাজপরিবারের সঙ্গে বিব্রত হতে হয় মেগানকেও।

তবে বাবাকে লেখা মেগানের এ চিঠি থেকে হস্তলিপি বিশারদরা বের করে এনেছেন মেগানের ভিন্ন দিক। তারা উল্লেখ করেছেন, ব্রিটিশ রাজবধূ অনেকটাই আত্মপ্রচারণায় মুগ্ধ।

গত বছরের মে মাসে হ্যারির সঙ্গে বিয়ে হয় হলিউডের সাবেক অভিনেত্রী ও মডেল মেগানের। ‘অসুস্থতাজনিত’ কারণে মেয়ের বিয়েতে অংশ নেননি টমাস মের্কেল। কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখতেন না মেগান, এমন অভিযোগও আনেন তিনি। এমনকি প্রিন্স হ্যারির আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন টমাস।

এ নিয়ে গত বছরের আগস্টে বাবাকে পাঁচ পৃষ্টার এ চিঠি লেখেন মেগান। রাজবধূ লেখেন, “আপনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমার বিয়েতে আপনি আসতে পারবেন না এটা আমাকে ফোনে জানিয়েছেন।  কিন্তু সত্যিটা হল আপনি  আমাকে ফোন করেননি। আপনি আমার মন ভেঙে দিয়েছেন। আপনি শুধু অযাচিত-অপ্রত্যাশিত ব্যথাই দেননি, আপনি সত্যটাও গোপন করে গেছেন। কেন এটা করেছেন তা হয়তো আমি কখনই জানতে পারব না।”

মেগান আরও লেখেন, “আমি আপনাকে কখনই আর্থিকভাবে সাহায্য করিনি এবং আপনিও আমার কাছে কখনই সাহায্য চাননি। এটাও সত্য নয়। অথচ গত অক্টোবরেও আপনি আমাকে ইমেইল করে বলেছিলেন, আপনি আমার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন এবং আরও সাহায্য চেয়েছেন।”

বাবা টমাসকে তিনি লেখেন, “আমি আপনাকে ভালোবেসেছি, যত্ন নিয়েছি, পাশে দাঁড়িয়েছি, যখন যা পেরেছি দিয়েছে, আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন হয়েছি...সবসময় আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি। আমার বিয়ের সপ্তাহে আমি আপনার হার্ট অ্যাটাকের খবর পেয়ে আপনাকে কল করেছি, বার্তা পাঠিয়েছি। আমি আপনাকে সাহায্য করতে চেয়েছি। আপনার বাসায় মানুষ পাঠিয়েছি, আপনি আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করেছেন, সাহায্য নেয়া বন্ধ করেছেন। তার পরিবর্তে আপনি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেয়া শুরু করলেন।”

এদিকে মেগানের হাতের লেখা নিয়ে তার মানসিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। এতে হস্তলিপি বিশারদরা জানান, সুন্দর হস্তলিপিতে লুকিয়ে আছে মেগানের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য, যার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নিজেকে অধিক প্রদর্শন করার ইচ্ছাও।

হস্তলিপি বিশেষজ্ঞ এমা বেচ বলেন, হাতের লেখার মাধ্যমে বোঝা যায় মেগান ‘অতি সাবধানী’, ‘নিজেকে প্রদর্শন করতে ইচ্ছুক’ সেইসঙ্গে ‘আত্মমুগ্ধও’।

তিনি বলেন, “মেগানের হস্তাক্ষর অনেকটাই ধীর। বিশ্ববাসীর নজর যেহেতু তার দিকে, তাই এ ব্যাপারে তিনি অতি সতর্ক, অধিক সচেতন।”

এমা বলেন, “এতে তার স্বতঃস্ফূর্ততা প্রকাশ পাইনি, এমনকি সৃজনশীল ব্যক্তি হিসেবেও তাকে বলা যায় না। বরং বুঝা যায়, তিনি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তার কলম ধরা এবং লেখার সময় এর উপর চাপ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, স্বাভাবিক ছিল না তার লেখনী। পেন স্ট্রোকের ওপর নিয়ন্ত্রনও ছিল না মেগানের।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত