শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তরুণীকে ধর্ষণ: ২ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১১ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে ওই থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার শনিবার রাতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেন।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম।

ধর্ষণের শিকার তরুণী রোববার মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা সেকেন্দার হোসেনের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা ছিলেন ধর্ষণের শিকার তরুণীর (২০) এক খালা। বুধবার তিনি ওই খালার সঙ্গে সাটুরিয়া যান টাকার জন্য। সেখানে সেকেন্দার তাকে টাকা দেওয়া হবে জানিয়ে একটি ডাকবাংলোয় নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর সাটুরিয়া থানার এএসআই মাজহারুল সেখানে হাজির হয়।

অভিযোগকারী আরো জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তা টাকা দিতে অস্বীকার করে হুমকি দেন। পরে তারা ডাকবাংলোর একটি কক্ষে ইয়াবা সেবন করেন ও তরুণীকে জোর করে ইয়াবা সেবন করান। তারা তরুণীকে সারারাত ধর্ষণ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে সাটুরিয়ার ওসি বিষয়টি জানতে পেরে ডাকবাংলোয় যান। তিনি ওই নারীদের জিজ্ঞাসাবাদও করেন। তবে দুই পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির কারণে তারা ওসিকে কিছু জানানোর সাহস পাননি। পরে ওসির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা দেওয়ার কথা জানান হলেও সে রাতেও তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগে জানান হয়, শুক্রবার সকালে ৫ হাজার টাকা হাতে দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল।

নির্যাতনের শিকার তরুণী জানান, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করলে গুম করার হুমকিও দিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা। শুক্রবার সকালে সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সাভারে ফিরে পরিচিত সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান তিনি।

সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুর ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে পুলিশ সুপার ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাটুরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে।

এসআই সেকেন্দার হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক নারী তার কাছে পাওনা টাকার জন্য সাটুরিয়া এসেছিলেন। তাকে কিছু টাকাও দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামিম রবিবার রাতে বলেন, ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা প্রমাণিত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ সদস্য হিসেবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত