সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিখোঁজ স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ কোথায় পাবেন ফজিলা?

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:০২ এএম

প্রায় একযুগ আগের একদিন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ঢাকায় ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল হানিফ মোল্লা। আজও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর ট্যাক্সিক্যাবটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ঢাকার রাজমণি সিনেমা হলের পেছনে পাওয়া যায়।

হানিফ মোল্লা নিখোঁজের ঘটনায় লিঙ্কস ক্যাব (বিডি)’র কর্মকর্তা ওবায়দুল হক ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কাফরুল থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং-১২৬৪, তাং-১৯.০২.০৭।

নিখোঁজের এক যুগ পার হলেও সন্ধান মেলেনি হানিফ মোল্লার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে পথে বসতে চলেছে দুই ছেলে, দুই মেয়ে আর স্ত্রীসহ পাঁচজনের পরিবারটি।

অর্থাভাবে একসময়ের সচ্ছল পরিবারটির গৃহকর্ত্রী ফজিলা বেগমের চোখে এখন রাজ্যের অন্ধকার। হতাশায় জর্জরিত গোটা পরিবার।

যশোর শহরের রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে কোনোরকমে মাথা গুঁজে বাস করছেন ফজিলা বেগম। স্বামী আব্দুল হানিফ মোল্লা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ গ্রামের মৃত কাদের মোল্লার ছেলে। সেনাবাহিনীর ল্যান্সনায়েক পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় ট্যাক্সিক্যাব চালাতেন। চার ছেলে মেয়ে নিয়ে যশোরে বসবাস করতেন ফজিলা।

স্বামী হানিফ মোল্লা নিখোঁজের খবরে তিনি ঢাকায় ছুটে যান। থানা-পুলিশ বহু জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু স্বামীর সন্ধান মেলেনি। একদিকে, স্বামী নেই, অন্যদিকে ছোট ছোট চারটি সন্তান। উপায়ান্ত না পেয়ে ছুটেছেন স্বামীর সর্বশেষ কর্মস্থলে। গেছেন খুলনার সোনালী ব্যাংক স্যার ইকবাল সড়ক শাখায়, যেখানে স্বামীর অবসর ভাতা গ্রহণের অ্যাকাউন্ট। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। না পেয়েছেন স্বামীর সন্ধান, না পেরেছেন ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে।

সেনা সদস্য হওয়ায় প্রতি মাসে পেনশনের টাকা ওই অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। টাকা উত্তোলন আর হচ্ছে না। তিনি নমিনি হলেও কিছুই করতে পারছেন না।

অর্থকষ্টকে সঙ্গী করে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করছেন ফজিলা বেগম। স্বামীর নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কয়েক লক্ষ টাকা জমা হলেও, পারছেন না নিজেদের ভরণপোষণের সামান্য কয়েকটি টাকাও।

স্বামীর সন্ধান আর টাকা তোলার উপায় খুঁজে না পেয়ে ফজিলা জানালেন, ‘যেখানেই যাই, সবাই বলে স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ নিয়ে আসো। তাই এখন বুকে পাথর চেপে স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট চাই।’

ফজিলা জানান, আত্মীয়স্বজনদের সহায়তায় কোনো রকমে দু’টি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। একটি মেয়ে লেখাপড়া করছে। অর্থাভাবে ছোট ছেলেটির লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী টাকা তুলতে হলে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ প্রয়োজন জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অসহায় ফজিলার কণ্ঠে হতাশার সুর, ‘নিখোঁজ স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট কোথায় পাব?’

জীবনসংগ্রামে ক্লান্ত ফজিলা শেষ আশ্রয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেছেন। বলেছেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো বহু মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করেন। আমি কোনো টাকা পয়সা সাহায্য চাই না, আমার স্বামীর টাকা যাতে পেতে পারি, সেই ব্যবস্থা করে আমার ছেলে মেয়েদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত