রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সরকারি বিদ্যালয়ের এই হাল

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:১০ পিএম

ছোট দুটি টিনের ঘর। পাশেই পরিত্যক্ত পাকা ভবন। এক পাশে বেড়া থাকলেও তিন পাশে নেই। চালের ফাঁক গলে সূর্যের আলো পড়ছে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের গায়ে। শিক্ষকদের কক্ষ, লাইব্রেরির কার্যক্রম চলছে বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে টেবিল-চেয়ার পেতে। বিদ্যালয়ের মালামাল রাখা হয়েছে পরিচলানা পর্ষদের এক সদস্যের বাড়িতে। এভাবেই পাঁচ বছর ধরে ভগ্নদশার টিনশেড ঘরে চলছে পটুয়াখালীর রাংগাবালী উপজেলার রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।একটি আধুনিক পাকা ভবনের জন্য বরাদ্দ পেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছয় মাস ধরে কাজ শুরু না করায় এ সংকট কবে কাটবে জানা নেই সংশ্লিষ্টদের। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরেও দুই বছর ঝুঁকি নিয়ে সেখানেই চলে পাঠদান। পরে ২০১৫ এবং ২০১৭ সালের ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা দিয়ে পাশেই তোলা হয়েছে ছোট দুটি টিনশেড ঘর। সেখানেই ৫জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দুই পালায় (শিফট) পাঠ দিচ্ছেন ১৯৮ জন শিক্ষার্থীকে। গত বছর বিদ্যালয়ে পাসের হার ছিল ৯৩।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর দেশ রূপান্তরকে জানান, খুব কষ্ট করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। গ্রীষ্মকালে টিনের চালের তাপে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের হাঁসফাঁস অবস্থা। বর্ষাকালে বৃষ্টি থেকে রক্ষায় উপায় খুঁজতে হয়। কক্ষ-সংকটে রেজুলেশন করে পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্যের বাড়িতে রাখা হয়েছে বিদ্যালয়ের মালামাল। খোলা আকাশের নিচে চলছে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শুনেছি খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছগির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য তিন কিলোমিটার সড়কসহ একটি আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নিম্নমানের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এর নির্মাণকাজ হবে। ছয় মাস আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এসেছিল। শুনেছি তারা অন্য এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। আশা করছি খুব শিগগিরই শুরু হবে ভবনের কাজ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত