রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জাদুঘরের নামফলক থেকে জিয়ার নাম মুছল ছাত্রলীগ

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৮ এএম

চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম মুছে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরামের সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুর রহিম শামীম।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কাজীর দেউড়িতে মানববন্ধন শেষে তিনি নামটি মোছেন। এদিকে বিবৃতি দিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের নেতারা।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে কাজীর দেউড়িতে জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এতে আবদুর রহিম শামীমের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাহুল দাশ পরিচালনা করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, হেলাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সরওয়ার আলম মনি, ছাত্রলীগ নেতা একরামুল হক রাসেল প্রমুখ।

মানববন্ধনে মোজাফফর আহমদ বলেন, ‘জিয়া একজন বিতর্কিত মানুষ। তার নামে কখনো স্মৃতি জাদুঘর হতে পারে না।’ ওই সময় স্বাধীনতা দিবসের আগে এ জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন শেষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক কালি দিয়ে মুছে দেন ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহিম শামীম। তিনি বলেন, ‘জিয়ার মতো বিতর্কিত মানুষের নামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত জাদুঘর হতে পারে না। তাই তার নাম মুছে দিয়েছি।’

১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে নগরীর পুরোনো সার্কিট হাউস ভবনের ৪ নম্বর কক্ষে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেটিকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে রূপ দেয়। সেখানে জিয়ার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী সংরক্ষণের পাশাপাশি তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে।

বিএনপির বিবৃতি:  বিবৃতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, উপদেষ্টা রোজী কবীর, গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ বেশ কিছু নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা মুখেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। কিন্তু আসলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। সেই জন্যই একজন সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নামফলক মুছে ফেলার মতো ধৃষ্টতা স্থাপন করে গোটা মুক্তিযুদ্ধকে অপমানিত করেছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত