নার্সের চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক মা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:২৩ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মা পপি আকতারকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই প্রসূতি পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটা গ্রামের মো. রহিমের স্ত্রী।

বুধবার বিকেলে পেকুয়া বাজারে অবস্থিত প্যান ইসলামিক হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদেরকে থামান।

পপি আকতারের স্বামী মো. রহিম বলেন, ‘আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে বুধবার সকালে পেকুয়া বাজারে প্যান ইসলামিক হাসপাতালে ভর্তি করি। ডাক্তার না পেয়ে স্ত্রীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে নার্স সামারু বেগম অভয় দিয়ে বলেন তিনি ডেলিভারি করতে পারবেন। তিনি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সন্তান প্রসব করার জন্য চেষ্টা করেন। সেই সময় আবারও স্ত্রীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে নার্স ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এ সন্তান আমি ভূমিষ্ঠ করাতে পারবো না।

তিনি বলেন, সর্বশেষ আমার স্ত্রীর গর্ভ থেকে সন্তান বের করার সময় মাথা থেঁতলে যায়। একপর্যায়ে সন্তান নার্সের সামনে মারা যায়। মৃত সন্তান ও স্ত্রীকে আটকিয়ে রেখে ৩ হাজার টাকা আদায় করেন। বিয়ের ৫ বছর পর আমার স্ত্রী সন্তান ধারণ করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে পপি আকতারের দেবর মো. আজিজ বলেন, আমার ভাবির অবস্থা খুব খারাপ। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। ৫ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার অবস্থা খুব খারাপ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্স সামারু বেগম বলেন, গর্ভেও বাচ্চাটি নরমাল ডেলিভারি হয়। পানি শূন্যতার কারণে বাচ্চার মৃত্যু হয়। চিকিৎসার কোনো ক্রটি ছিল না। এর বাইরে নার্স কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

প্যান ইসলামিক হাসপাতালের পরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, বাচ্চা ডেলিভারি করার নিয়ম আমাদের হাসপাতালে নাই। তারপরও নার্স সামারু অন্যায়ভাবে ডেলিভারি করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিইএচও ডা. ছাবের আহমদ বলেন, পেকুয়া বাজারে প্যান হাসপাতালে কোনো নিয়মনীতি নেই। সেখানে নার্সের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

তিনি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত