ব্রিটেনের চলমান ব্রেক্সিট বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন দুই নারী। এর একজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ভিক্টোরিয়া বেটমেন। অপরজন ব্রিটেনের পদত্যাগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের বোন ও উপস্থাপিকা রিচেল জনসন।
ভিক্টোরিয়া বেটমেন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। তিনি নগ্ন হয়ে প্রচারণ চালাচ্ছেন এই বলে যে, যদি ব্রিটেন থেকে ইংল্যান্ড আলাদা হয়ে যায় তাহলে তারা 'নগ্ন' হয়ে যাবেন।
অপরদিকে রিচেল জনসন ব্রেক্সিটের পক্ষে। তিনি প্রকাশ্য টকশোতে নিজের টিশার্ট খুলে বোঝাতে চেয়েছেন, 'ব্রেক্সিট হচ্ছে আমাদের পোশাক, এ নিয়ে যদি আমরা আলোচনা না করি তাহলে আমরা নগ্ন হয়ে যাব।'
বৃহস্পতিবার রাতে এক টকশোতে আরো দুই নারী ও পুরুষের সামনে তিনি নিজের উর্ধাঙ্গের টিশার্ট খুলে এসব বলেন।
তার ভাই বরিস জনসনও ছিলেন ব্রেক্সিটের পক্ষে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্কাই নিউজ সম্প্রচার করছিল। রিচেল ছিলেন এর উপস্থাপক।
তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিট বিষয়টি বর্তমানে এমন অবস্থায় চলে এসেছ যে, কেউ বিষয়টির দিকে কানই দিতে চান না। আমরা একটা চরম সময় পার করছি। আমি মনে করি, ব্রেক্সিট ব্রিটেনের পোশাক। সেই পোশাককে খুলে ফেলার চেষ্টা চলছে।’
এই বলে তিনি তার শার্ট খুলে ফেলেন।
তবে ক্যামব্রিজের অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া নিজের নগ্ন হয়ে প্রচার চালানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের শরীর কি শুধু সেক্স করা আর বাচ্চাদের লালন করার জন্য? আমরা কেন আমাদের শরীরকে এসব বাদেও অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহার করব না?’
মিসেস জনসন অবশ্য পরে টুইট করে জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরিভাবে তার বক্ষযুগল উন্মোচন করেননি। স্তনের ওপর ‘বুব টিউব’ (এক ধরনের বক্ষ বন্ধনী) পরেছিলেন। তাই বলা যাবে না যে, তিনি সম্পূর্ণভাবে নগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের অপসারণ, যা সংক্ষেপে ব্রেক্সিট নামে পরিচিত। ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সুলভমূল্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অভিন্ন বাজারসুবিধা।
১৯৯৩ সালে ইইউ নিজস্ব মুদ্রা, নীতিমালা, নাগরিকদের জন্য সীমানামুক্ত বিচরণসহ যুক্ত করাসহ অনেকগুলো পরিবর্তন আনে। কিন্তু অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ব্রিটেনের ইইউর বিধি-নিষেধ মেনে চলা নিয়ে বেশ নাখোশ।
তাই ইইউ থেকে ব্রিটিশ জনগণের থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বা ব্রেক্সিট নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের।
