লোক থেকে লোকান্তরে পাড়ি দিলেন বাংলা কবিতার শক্তিশালী কবি আল মাহমুদ। রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানান কবির ছেলে মীর মোহাম্মদ আনিস।
৮২ বছর বয়সী আল মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত বছরের জানুয়ারিতেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে ‘ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। গতকাল রাতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। রাত ১১টা ৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে ভিড় করেন অনেকে।
হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক আনিসুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হাই আল মাহমুদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছিলেন। তার সঙ্গে আরও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন আল মাহমুদ। তার কিডনির অবস্থাও ভালো ছিল না।
আল মাহমুদের ছেলে আনিস গতকাল রাত ১২টার দিকে দেশ রূপান্তরকে জানান, তাকে কোথায় দাফন করা হবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে একটি জানাজা হতে পারে। তারপর তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে দাফনের জন্য।
‘সোনালি কাবিন’, ‘লোক-লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে উঠো’র মতো তার বহুল পঠিত ও সমাদৃত কবিতার বই তাকে দিয়েছে সমকালীন অন্যতম প্রধান কবির জনপ্রিয়তা। সমাজতান্ত্রিক দর্শন থেকে ডানপন্থি রাজনীতির বলয়ে তার বিচরণ নিয়ে সমালোচনা থেকেও তিনি মুক্ত নন।
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের মোড়াইলের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার বাবার নাম মীর আবদুর রব, মায়ের নাম রওশন আরা মীর। কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্প ও শিশুদের জন্য ছড়া লিখেছেন আল মাহমুদ।
বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও একুশে পদক ও জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। আল মাহমুদ দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। পাকিস্তান আমলে দৈনিক ইত্তেফাকের মফস্বল বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন আল মাহমুদ। স্বাধীনতার পর দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আল মাহমুদ।
