ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণকে সরকারের তামাশা বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যারা মাদকের ব্যবসা করে তারা মূলত ক্ষমতাসীন সরকারের লোক।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন : প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মোশাররফ হোসেন বলেন, এত দিন মাদক ব্যবসায়ীদের একজন একজন করে ধরা হয়েছে। এবার ঘটা করে ধরা হচ্ছে। পুলিশের কাছে তো আগেও লিস্ট ছিল। এত দিন মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে হালকাভাবে মামলা দেওয়া হয়েছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যেতে পেরেছে। কেন তা করা হয়েছিল, এর মূল কারণ একটা-তারা ক্ষমতাসীনের লোক। এখন আত্মসমর্পণের নামে তামাশা চলছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, নারী নির্যাতন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেন এই অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধ তলানিতে গেছেই বলে আজকে সমাজকে কূড়েকূড়ে খাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তিনি একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীর প্রতি অবিচার করছেন। নির্যাতন করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। নারী জাতির অগ্রগতির জন্য তার ভূমিকা বিশ্ব স্বীকৃত। অথচ তাকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখে হয়েছে। আজকে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী। তার আমলে আজকে মহিলা নেত্রী ও সাধারণ নারী ও শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। গত ১২ বছরের চিত্র তুলনা করা হলে দেখা যাবে সর্বক্ষেত্রে অবক্ষয়। এই অবক্ষয়ের কারণ বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই।
সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিচারালয় আজকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। এখানে মানুষ বিচার পায় না। কেনো পায় না ? কারণ ক্ষমতায় যারা আছে তারা স্বৈরাচারী ও এক নায়ক। এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন চলছে। ছোট খাট ভুল বোঝা বোঝি কাটিয়ে বিএনপিকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ করতে হবে।
বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরে আরা সাফা'র সভাপতিত্বে ও মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাহিদা রফিক, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।
সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দলের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা।
