মসজিদ কমিটি নিয়ে আ’লীগের সংঘর্ষ, কাউন্সিলরসহ গ্রেপ্তার ২২

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মসজিদের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। রোববার রাতে নগরীর বাপ্পি চত্বর এলাকায় এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

এ ঘটনায় পুলিশ ১৮ নস্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের নতুন কমিটি গঠন ও মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে এশার নামাজের পর মসজিদ কমিটির লোকজন আলোচনায় বসেন।

এ সময় বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেনের ভাগ্নে আল আমিন টিপু মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার চাচা সাদেক হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।

এ নিয়ে কামরুল হাসান মুন্নার লোকজন টিপুকে মারধর করেন। টিপু নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি তদন্ত করতে পুলিশ ওই এলাকায় যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামরুল হাসান মুন্নার নেতৃত্বে লোকজন গিয়ে টিপুর বাড়িত হামলা চালায়। পরে কাউন্সিলর কবির হোসেনের নেতৃত্বে তার লোকজন মুন্নার বাড়ির সামনে গেলে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এতে বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেন ও কামরুল হাসান মুন্নার দুই ভাই রানা ও তানহাসহ প্রায় ১৫ জন আহত হন। এ সময় দুইপক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কামরুল হাসান মুন্না বলেন, টিপু আমার চাচা সাদেক হোসেনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। এ নিয়ে আল আমিন টিপু থানায় অভিযোগ দেয়। পুলিশ তদন্ত করতে এলাকায় এলে পুলিশের সঙ্গেই আমি ওই বাড়িতে যাই ঘটনা জানার জন্য। পরে কাউন্সিলর টিপুকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে রাতের বেলায় হৈচৈ ও গালিগালাজ করার পর সংঘর্ষ হয়। এতে আমার দুই ভায়ের মাথা ফেটে যায়।

বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেন বলেন, ‘মসজিদের হিসাব চাওয়ায় কাউন্সিলর মুন্নার লোকজন আমার ভাগ্নে টিপুকে মারধর ও তার বাড়িতে হামলা চালায়। বিষয়টি কাউন্সিলর মুন্নাকে জিজ্ঞাসা করতে রাতে তার বাড়ির সামনে গেলে তারা আবার আমাদের ওপর হামলা চালায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান কাউন্সির কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না গ্রুপের মধ্যে কয়েক দিন পরপরই সংঘর্ষ হয়। রোববার রাতেও দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

ওসি জানান, পুলিশ গিয়ে বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত