বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৫১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় এমপি এবাদুল করিম বুলবুল মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

নবীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাসেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমানসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০/৩০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

বিচারক মোহাম্মদ সারওয়ার-ই আলম মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর করার জন্য নবীনগর থানা-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাবিবুর রহমান আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে এমপি এবাদুল বুলবুল কর্তৃক মনোনীত একক প্রার্থী। তবে তাঁকে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের নিকট আত্মীয় ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযুক্ত করে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন মনোনয়ন বঞ্চিত তিন প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য জহির সিদ্দিক টিটু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম আল আমিন আহমেদ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার তিন সাক্ষী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, আল আমিন আহমেদ ও জহির সিদ্দিক টিটু আসন্ন নবীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী। সে জন্য নিজেদের সমর্থনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার প্রচার করেন ওই প্রার্থীরা। নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তিন প্রার্থী গত ১১ ফেব্রুয়ারি নবীনগর উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পাশে কর্মী সভা আহ্বান করে সভাস্থলকে উপযোগী করে তোলার জন্য মামলার বাদী আবু রাসেল ভূঁইয়া ও অন্য সাক্ষীদের দায়িত্ব দেন।

১০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়ে মঞ্চ তৈরির সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মামলার আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় তাঁরা সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ২০০টি পোস্টার ও ১০টি ব্যানার ছিঁড়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কর্মিসভার মঞ্চ ভাঙচুর করে।

মামলার বাদী নবীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু রাসেল ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, আসামিরা জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন সদস্য হয়ে সেটি সহ্য করতে না পারায় মামলা করেছি।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ.কে এম আব্দুল্লাহ্ আল মনির সাংবাদিকদের জানান, বিচারক মামলাটি এফআইআর করার জন্য নবীনগর থানা-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান জানান, আমার মনোনয়ন সহ্য করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট মামলা দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত