বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে ২২টি মৃত ভ্রূণ (নবজাতক) উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান খুরশিদা জাহান এবং ওয়ার্ডের কর্তব্যরত প্রধান সেবিকাকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. মোশারফ হোসেন।
সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই ভ্রূণগুলো উদ্ধার করে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের (ইন্টার্ন) হাতেকলমে শেখানোর জন্য রাখা ভ্রূণগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে।
মো. মিরাজ হাওলাদার নামে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্জ্য অপসারণ করতে যায়। কাজ শুরুর মুহূর্তে আবর্জনার স্তূপের মধ্যে অনেকগুলো মৃত নবজাতক দেখে তারা আঁতকে ওঠেন। ভয়ে তারা বর্জ্য অপসারণের কাজ বন্ধ করে দেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোদাচ্ছের কবির জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শিশু ভ্রূণগুলো উদ্ধার করে। মৃত ওই ভ্রূণগুলোর মধ্যে ৩টি নবজাতকের মৃতদেহ ছিল প্লাস্টিকের জারে ভরা। নবজাতকের মৃতদেহগুলো হাসপাতালের গাইনি বিভাগ থেকে ফেলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকীর হোসেন বলেন, হাসপাতালের গাইনি বিভাগের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নবজাতকের মৃতদেহগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল। মেয়াদ শেষে মৃতদেহগুলো ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো মাটিচাপা না দিয়ে খোলা জায়গায় ফেলা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভ্রূণগুলো কেন মাটি চাপা দেওয়া হয়নি সেটা খতিয়ে দেখা হবে। ভ্রূণগুলো ডাস্টবিনে ফেলার কারণেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শুনে আমরা সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে ভ্রূণগুলো পাওয়া গেছে। তবে এগুলো সত্যিই শেখানোর জন্য রাখা ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
