বাংলাদেশ কখনো দেখিনি, আমি ব্রিটিশ নাগরিক: আইএস বধূ শামীমা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩১ এএম

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে লন্ডন থেকে সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম বাংলাদেশের নাগরিক নয় এবং তার দায়ও বাংলাদেশ নেবে না জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শামীমা নিজেও দাবি করেছেন তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন।

তিনি বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি কুয়েনটিন সামারভিলকে বলেন, তিনি শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যেরই নাগরিক। আগে তার সঙ্গে কথা না বলে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে ভুল করবে ব্রিটিশ সরকার।

শামীমা বলেন, “আমার জন্ম বাংলাদেশে না, আমি বাংলাদেশ কখনো দেখিনি। এমনকি আমি ঠিকমতো বাংলায় কথাও বলতে পারি না। তাহলে তারা কীভাবে দাবি করে যে, আমি বাংলাদেশের নাগরিক।'

২০১৫ সালে ১৯ বছর বয়সী শায়েস্তা যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে যোগ দেন। তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। এখন তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানান।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার আইএসের শেষ দুর্গ বাঘুজ শহর পতন হওয়ার পর এক শরণার্থী ক্যাম্পে তার সন্ধান পান লন্ডনের দৈনিক দি টাইমসের একজন সাংবাদিক।  ওই সময় ১৯ বয়সী এই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

তবে ব্রিটিশ সরকার শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব আইন-১৯৮১ অনুসারে, জনগণের কল্যাণে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রহীন হবে না।

শামীমার মা যেহেতু বাংলাদেশি নাগরিক, দেশটির আইন অনুসারে শামীমাও দেশটির নাগরিক বলে ধরে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ আইনজীবীরা বিবিসিকে জানায়, শামীমার মা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক তাহলে দেশটির আইনানুযায়ী স্বাভাবিকভাবে তিনিও বাংলাদেশি। 

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শামীমাকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে 'ভুলভাবে চিহ্নিত' করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে সরকার গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানান, শামীমা বেগম কখনোই বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানায়নি। তিনি কখনো বাংলাদেশে আসেননি। সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থার ব্যাপারে বাংলাদেশ কোনোভাবে ছাড় দেবে না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত