শেষ মুহূর্তে বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিল ছোট ছেলেটি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:১৪ পিএম

বড় ছেলের বন্ধুর বাসায় রাতের দাওয়াত পেয়েছিলেন তারা। সেই দাওয়াত খেতে লালবাগ থেকে রিকশায় চকবাজার এলাকায় আসেন। হয়ত মেতে ছিলেন খুনসুঁটিতে। বাবার কোলে ছোট ছেলেটি, মায়ের কোলে বড় ছেলে। গন্তব্যও আর বেশি দূর ছিল না। 

কিন্তু পথে হঠাৎ বিস্ফোরণ, আগুন। রিকশা থেকে কোনোমতে লাফিয়ে পড়ে বাঁচল বড় ছেলেটি। কিন্তু বাবা-মা আর ছোট ছেলেটি পুড়ে মরল সেই ভয়াবহ আগুনে। 
বাবা রাশিদুল (৩৯) হাতিরপুলে একটি চায়ের দোকান চালাতেন। টানাটানির সংসারেও সুখ ছিল তাদের। বুধবার রাতে তিনিসহ মা সোনিয়া ইসলাম (৩১) আর ছোট ভাই শাহির (৪) রিকশায় বসা অবস্থায় আগুনে পুড়ে যান। ভয়াল স্মৃতি নিয়ে রহিম (১১) এখন চিকিৱসা নিচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। তার শরীরের ছয় ভাগ পুড়ে গেছে। 
তাদের আত্মীয় মোহাম্মদ হানিফ এসব তথ্য জানান।    
ঢাকা মেডিকেলের মর্গে বাবা আর ছোট ছেলেকে জড়াজড়ি অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশে পাওয়া যায় মায়ের লাশ। পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়া সে চেহারা দেখে কান্না দমাতে পারেননি হানিফ। 
বুধবার রাত ১০টার দিকে এ আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করে বিমানবাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার। দুপুর নাগাদ আগুন পুরো নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে ৭০জনের প্রাণহানি ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ওই ভবনের নিচ তলায় থাকা কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগে।
এ ঘটনা আহত হয়েছেন আরও অর্ধশত। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। আগুন লাগার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও সরু গলি হওয়ায় ভবনের কাছে যেতে সক্ষম হয়নি। ফলে রাত সাড়ে ১২টার পর পাশের আরও প্রায় চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, চকবাজার থানার সামনে গাড়ি রেখে সেখান থেকেই পাইপের মাধ্যমে পানি নেওয়া হয়। এ ছাড়া আশপাশের ভবনের পানির ট্যাংক থেকেও পানি সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিস। রাত ৩টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত