উপজেলা নির্বাচন

নগরকান্দায় নৌকার বাধা সংসদ উপনেতার পুত্র

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৩৩ পিএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুরে নগরকান্দায় আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের পাশে নেই আ.লীগ নেতারা।

অপরদিকে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুলের পাশে স্থানীয় আ.লীগ নেতাসহ বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রায় সকলকেই কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

ওই এলাকার আ.লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধি পুত্র শাহদাব আকবরের নির্দেশের কারণে তারা বাধ্য হচ্ছেন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে। এ বিষয়ে শাহদাব তাদের বলেছেন, আ.লীগ যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন আমার প্রার্থী শাহ জামান। তাকে জেতাতে হবে।

আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদার জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি। তিনি নগরকান্দা উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুল কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক ছিলেন।

আ.লীগ প্রার্থীর পাশে যে আ.লীগ নেতারা নেই তা সবচেয়ে বেশি বোঝা গেল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে নগরকান্দায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়। ওই সময় তার পাশে উপজেলা আ.লীগের বর্তমান কমিটির কোন সদস্য এবং কোন ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন না। তার পাশে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জেলা পরিষদের সদস্য খন্দকার জাকির হোসেন নীলু, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলতাফ হোসেন।

অথচ এর এক দিন আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ জামান। ওইসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা আ.লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুস সোবাহান মিয়া, উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি কালাম কাজী, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, উপজেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান পথিক, যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, কাইচাইল ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেনসহ উপজেলার প্রায় সব কটি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যানগণ।

উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার জাকির হোসেন জানান, আমার রক্তে আ.লীগ। আমি নৌকার সঙ্গে  বেইমানি  করতে পারি না। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আ.লীগের নেতাদের না থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি শাহদাব আকবর আ.লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের ফোন করে বলেছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন, আমার প্রার্থী শাহ জামান। আপনাদের তার পক্ষে কাজ করতে হবে।’ জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘তবে শাহদাব আমাকে কোন ফোন করেনি।’

কেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন, জানতে চাইলে কোদালীয়া শহীদ নগর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে মার্কা দিয়েছেন আমাদের সকলে মিলে তার পক্ষে কাজ করা উচিত। কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না ছোট মামার (শাহদাব) জন্য । তিনি বলেছেন, দল অন্য কাউকে নৌকা প্রতীক দিলেও তার প্রার্থী শাহ জামান।

আ.লীগ প্রার্থী মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন আ.লীগের নেতৃবৃন্দ তাকে জানিয়েছে নির্বাচনে তাকে সাহায্য করতে পারবেন না। সংসদ উপনেতার ছেলে শাহদাব আকবর স্থানীয় নেতাদের ঢাকা ডেকে নিয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচন না করে শাহ জামানের পক্ষে নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অবস্থায় নেতা-কর্মীরা শাহদাব আকবরের ভয়ে তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং কেউ কেউ নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি বিপাকে পড়েছেন বলে জানান মনিরুজ্জামান।

এ অভিযোগের ব্যাপারে শাহদাব আকবর চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। কথা হয় সাজেদার এপিএস শফিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, শাহদাব প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করেননি। তবে তার কোন পছন্দের কথা তিনি কাউকে হয়তো জানিয়ে থাকতে পারেন। তিনি (শাহদাব) নৌকা বিরোধী কোন কাজও করছেন না বলেও দাবি করেন শফিউদ্দিন চৌধুরী।

এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন চারজন। এরা হলেন আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জমান সরদার, আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শাহ জামান, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য তালুকদার নাজমুল ইসলাম ও জাকের পার্টির খাইরুজ্জামান টিটু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত