বুধবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন এইচ এম কাওসার আহমেদ। রেখে গেছেন দুটি অবুঝ যমজ শিশু। যাদের বয়স মাত্র এক বছর। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারে দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কী করবেন তাদের মা তা জানা নেই।
অসহায় এ পরিবারটির পাশে দাঁড়াচ্ছেন উদ্যোক্তা ও মানবাধিকারকর্মী হাবিবুর রহমান জুয়েল।
তিনি ফেসবুকে লেখেন, 'চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছোট ভাই পবিত্র কোরআনে হাফেজ কাওসারের দুটি জমজ শিশু সন্তানের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে পেরে বেশ শান্তি অনুভব করছি'।
জুয়েল এ বিষয়ে রোববার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি অসহায় এ দুটি শিশু এবং তাদের মায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার। এ বিষয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
এ উদ্যোক্তা আরো বলেন, যতদিন না এই দুই শিশু নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারছে, ততদিন তাদের সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।
বর্তমানে ওই দুই যমজ শিশু এবং তাদের মায়ের আর্থিক অবস্থা ভালো না জানিয়ে তিনি বলেন, তারা মাসখানেক কাওসারের দাদার বাসায় থাকবেন। তারপর তাদের আমি বলেছি সবরকম সহায়তা করব। প্রয়োজনে গাজীপুরে আমার যে জায়গা আছে সেখানে তারা থাকতে পারবে।
জুয়েল বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এইচ এম কাওসারের স্বজনরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাওসার। চকবাজার শাহী জামে মসজিদ এলাকার আল-মদিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।
কাওসারের ভাই হাফিজ আহমেদ বলেন, দোকানটির আয় দিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতেন তিনি। পরিবারের ভরণপোষণের ভারও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭০ ব্যক্তি প্রাণ হারান।
