উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেটের ১২ উপজেলার মধ্যে ৯টিতে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কয়েকটি উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন নৌকার মাঝিরা। এ কারণে বিদ্রোহীদের দমাতে তারা কেন্দ্রে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরাও অনড়। শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা দিয়ে তারা নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দল থেকে শাস্তি দেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, তাতে তারা পাত্তা দিচ্ছেন না।
সদর উপজেলায় টানা দুইবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন নুরে আলম সিরাজী। দক্ষিণ সুরমায় বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাহিদকে এবারও মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু দ্বিধাবিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থনে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ময়নুল ইসলাম। ফেঞ্চুগঞ্জে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন সাংবাদিক মুজিবুর রহমান জকন। কিন্তু তাকে চ্যালেঞ্জ করে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা নুরুল ইসলাম। গোয়াইনঘাটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে গোলাম কিবরিয়া হেলালকে। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া। জৈন্তাপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন লিয়াকত আলী। এখানে লিয়াকতকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে ঠেকাতে দলের আরও ৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে একই পরিবারের পিতা, পুত্র এবং পুত্রবধূও রয়েছেন। বিদ্রোহীরা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল বাছির, তার ছেলে শামীম আহমদ ও পুত্রবধূ জরিনা বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা আপ্তাব আলী কালা মিয়া, ইয়াকুব আলী, শামসুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেন। কানাইঘাটে দলের প্রার্থী আবদুল মোমিন চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশ ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খয়ের চৌধুরী।
বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খানকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের আরও তিনজন নেতা। তারা হলেন- শামীম আহমদ, জাকির হোসেন ও আবুল কাশেম পল্লব। গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে এবারও মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবদুল ওয়াহাব জোয়ার্দার। জেলার জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জে একক প্রার্থী হিসেবে কিছুটা সুবিধায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এরা হলেন- জকিগঞ্জে লোকমান আহমদ চৌধুরী, বালাগঞ্জে মোস্তাকুর রহমান মফুর ও বিশ্বনাথে এস এম নুনু মিয়া।
