বিমান ছিনতাই চেষ্টা : শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত প্রত্যক্ষদর্শীর মুখে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫১ পিএম

“বিমান ছিনতাইয়ের সংবাদ টেলিভিশনে দেখেছি, পত্রিকায় পড়েছি। কিন্তু বাস্তবে যে নিজে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হবো, তা এ জীবনে ভাবি নাই। প্লেন থেকে নামার পর আল্লাহ তালার কাছে প্রথমেই শোকরানা আদায় করলাম।”- কথাগুলো বলছিলেন ওসমান গণি নামে একজন যাত্রী, যিনি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজের একজন যাত্রী ছিলেন।

সোমবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বাড়ি পেকুয়ায়। তিনি ওমান থেকে ফিরছিলেন। ওমান থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা ও ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছেন বাংলাদেশ বিমানের ওই ফ্লাইটে।

ওসমান বলেন, ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী উড়োজাহাজের ভেতরে “বিস্ফোরণের” মতো ঘটনা ঘটান। ততক্ষণে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে ওই অস্ত্রধারী ফ্লাইট স্টুয়ার্ট সাগরকে আটকে রেখেছে। উড়োজাহাজ অবতরণের পর কৌশলে উড়োজাহাজের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে তারা নেমে পড়েন।’

ওসমান আরো বলেন, তিনি নেমে আসা পর্যন্ত ক্রু সাগর ছাড়া ককপিটের ভেতরে তখন পর্যন্ত দু’জন বৈমানিক ছিলেন। অস্ত্র হাতে তিনি যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কেউ কোনো শব্দ করবে না।’

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ছিলেন ওমানগামী ফ্লাইটের যাত্রী কাউছার। তিনি জানান, তিনি ওমান প্রবাসী। রবিবার তার ফ্লাইট ছিল। তাই তিনি প্রয়োজনীয় সকল নিয়মাবলি পূরণ করেই বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। ছিনতাইয়ের কবলে থাকা বিমানটি যখন অবতরণ করে তখন তারা দ্বিতীয় তলায় ছিলেন। এর মাঝে পৌনে ছয়টার দিকে এ বিমানটি জরুরি ভাবে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দরের অফিস স্টাফদের বিমানটির কাছে ছুটে যেতে দেখেন। প্রথমে ওই বিমানে ইমারজেন্সি এক্সিট দিয়ে কিছু যাত্রীকে বের হতে দেখি। পরে বিমানের সামনের দিকে মইয়ের মতো কিছু একটা লাগিয়ে কয়েকজন পাইলটের জানালা বরাবর গিয়ে বেশ কিছু সময় কথা বলতে দেখা যায়। পরে ওপরের একটি দরজা দিয়ে পাইলট বেরিয়ে আসেন। এ সময় বিমানবন্দরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দোতলা থেকে নিচতলায় নেমে আসি।

ওই বিমানের কয়েকজন যাত্রী বিমানে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। তবে সবাই এক বাক্যে বলেছেন পাইলটের দক্ষতায় তারা বেঁচে ফিরেছেন।

উড়োজাহাজটিতে থাকা কয়েকজন যাত্রী গত রবিবার সাংবাদিকদের জানান, বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী যুবককে (পলাশ মাহমুদ) বলতে শোনা যায়, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। গুলির শব্দ পেয়েছি, কেউ কেউ বলছিল বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। অনেকে মনে করেছিল বিমানে আগুন ধরেছে। সেসময় সবাই দোয়া পড়ছিল। চিৎকার ও কান্নাকাটি করছিল। বিমানটি অনেকটা উপর-নিচ করছিল। এয়ার হোস্টেসরা সিট বেল্ট বেঁধে যাত্রীদের আসনে বসে পড়েছিলেন। যাত্রীদের অনেকই লাইফ জ্যাকেট পরে ফেলেছিলেন। এভাবে অনেকক্ষণ থাকার পর বিমানটি ল্যান্ড করে। বিমান থেকে নামার পরও আতঙ্কে ছিলেন যাত্রীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত