কোলন ক্যানসার নির্ণয়ে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগীর জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মাত্র তিনটি কোলনস্কপি মেশিন থাকলেও এর দুটিই নষ্ট। বর্তমানে গ্যাস্ট্রোএন্টারলজি বিভাগের একটি মেশিনে চলছে সেবা কার্যক্রম। এতে দূরদূরান্ত থেকে অনেক রোগী পরীক্ষা করাতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। যারা সিরিয়াল দিয়ে যাচ্ছেন তিন সপ্তাহ পর তাদের পরীক্ষার সুযোগ মিলছে। কোলন ক্যানসার এমন এক ধরনের রোগ, যা দেহের মলাশয়, মলনালি বা অ্যাপেন্ডিক্স অংশে অনিয়ন্ত্রিত কোষবৃদ্ধির কারণে হয়।
চমেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মঈনুদ্দীন মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সার্জারি বিভাগের আউটডোর ও ইনডোরের দুটো কোলনস্কপি মেশিনই নষ্ট। এখন রোগীদের গ্যাস্ট্রোএন্টারলজি বিভাগে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে এরপর অপারেশন করি। এতে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হচ্ছে।’
সম্প্রতি হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, সার্জারি বহির্বিভাগের কোলনস্কপি মেশিন প্রায় দুই মাস বিকল। ইনডোরের মেশিনের শুধু প্রিন্টার নষ্ট হওয়ায় সেটি দিয়েও রোগ নিরূপণ সম্ভব হচ্ছে না। মেডিকেল কর্র্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৫০ জন কোলন ক্যানসার নির্ণয়ে আসেন। কিন্তু একটি মেশিনে দৈনিক আটজনের বেশি রোগীর পরীক্ষা সম্ভব না। তাই কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে সিরিয়াল দিতে হয়।
সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা থেকে কোলনস্কপি করাতে আসা গৃহবধূ রুমিতা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বহির্বিভাগের মেশিন নষ্ট এটা জানতাম না, এখন এসে শুনলাম। সিরিয়াল দিয়ে যাচ্ছি, আগামী মাসে এসে পরীক্ষা করাব।’ রোগীদের অভিযোগ, এ অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা। চমেক হাসপাতালে ‘ফুল কোলনস্কপি’ পরীক্ষায় ১২০০ টাকা খরচ হলেও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। চমেকে ‘শর্ট কোলনস্কপি’র ব্যয় মাত্র ৫০০ টাকা, যেখানে ক্লিনিকে ৩ হাজার টাকা।
চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাপানের পেনটেক্স কোম্পানির বাংলাদেশি পরিবেশক নষ্ট মেশিন মেরামত করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘন ঘন মেশিন নষ্ট হওয়ায় আমরা রোগী নিয়ে সমস্যায় পড়ি। নতুন কোলনস্কপি মেশিন কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’
মেশিন বিকল ছাড়াও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কোলন ক্যানসারের চিকিৎসা। গ্যাস্ট্রোএন্টারলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিনয় পাল দেশ রূপান্তরকে জানান, টেকনোলজিস্টের কোনো পদ না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে রোগ নির্ণয় চলছে। তিনি বলেন, ‘একটিমাত্র মেশিন দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। আমরা চেষ্টা করি যেন সব রোগী সেবা পান।’ এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘৪০-৫০ বছর বয়স হলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। কোলনস্কপি করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যায়।’
