আফ্রিকার দরিদ্র দেশ তাঞ্জানিয়ায় দশকের পর দশক অনুসন্ধানের পরও প্রাণঘাতী রোগ নডিং সিনড্রোমের কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি গবেষকরা। রোগটির কারণ নির্ণয় করা গেলে বাঁচানো যেত হাজারো প্রাণ। শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে আলঝেইমারের মতো রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিও উদ্ভাবন করা যেত।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে ‘কিফাফা’ হিসেবে পরিচিত রোগটি। তাঞ্জানিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী ওয়াপোগোর জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় খুব কমই আছে। এ গোত্রের আদিবাসীরা তাঞ্জানিয়ার গহিন বনে পাহাড়ে থাকে। সেখানে মাটির নিচে আছে ফসিল থেকে শুরু করে রত্নের মতো অনেক গুপ্তধন।
হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থেকেও ওয়াপোগোরা সে অঞ্চলে দিব্যি দিন কাটাচ্ছিল। তাদের এই জীবনযাপনের কথা অগোচরেই ছিল বাকি পৃথিবীর। তবে ১৯৫৯ সালে নরওয়ের চিকিৎসক সেখানে গেলে তাদের বিষয়ে বহির্বিশ্বে জানাজানি হয়। লুই জিলেক-আল নামের ওই চিকিৎসকের বয়স ছিল তখন মাত্র ২৮ বছর। মেডিকেলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ওই এলাকায় ক্লিনিক স্থাপনের কথা ভেবেছিলেন। রোগী দেখা শুরুর পরই তিনি অদ্ভুত একটি বিষয় খুঁজে পান।
প্রায় প্রতিদিনই দুই বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সীরা মারাত্মক পোড়া নিয়ে এ চিকিৎসকের কাছে আসতে শুরু করে। এদের মধ্যে অনেকে ক্ষত নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। তবে এক মেয়েশিশুর রোগ একেবারেই শনাক্ত করা যায়নি।
নরওয়ের চিকিৎসক দেখতে পেলেন, কয়েক বছর ধরে জ্বলাপোড়ার পর রোগীদের গায়ে গোলাপি রঙের ক্ষত হয়েছে। তিনি আরও জানতে পারেন, ওই গোত্রের শিশুরা বেশ কিছু দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ডুবে মরা।
জিলেক-আল যখন কারণ খুঁজতে গেলেন, তখন তিনি লোকজনের মধ্যে ভয় ও এড়িয়ে যাওয়া দেখলেন। এমনকি আক্রান্ত শিশুদের নিকটাত্মীয়রাও এ নিয়ে কথা বলতে চাইত না। ঘটনাক্রমে জিলেক-আল বুঝতে পারলেন, তার রোগীরা সোয়াহিলি ভাষায় কিফাফায় (ছোট মৃত্যু) আক্রান্ত হচ্ছে। তারা পড়ে গিয়ে মারা যাচ্ছে। কখনো ঘরের চুলার পাড়, কখনো নদীতে মারা পড়ছে তারা।
রহস্য সেখানেই শেষ হয়নি। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা খর্বাকৃতির, বুদ্ধিগত সমস্যা ও অদ্ভুত আচরণ করত। তাদের চলাফেরা অদ্ভুত ও ভাবলেশহীন ছিল। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ছিল তাদের ঝিমুনি। দিনে কয়েকবার চোখ বন্ধ করে তারা মাথা বুকে ঠেকিয়ে দিত। এ অবস্থা কয়েক বছর ধরে চলার পর শিশুরা মারা যেত।
