মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডাকাতি করে পালানোর সময় নৈশ প্রহরীদের হাতে আটক ৫

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৫:৫৩ পিএম

বাগেরহাটের শরণখোলা ডাকাতি করে পালানোর সময় সন্দেহভাজন পাঁচ ডাকাত সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে নৈশ প্রহরীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি টর্চ লাইট ও নগদ এক হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার ভোরে জেলার পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার কেয়ার বাজার এলাকায় পাহারাদার নৈশ প্রহরীদের হাতে ওই পাঁচ ডাকাত ধরা পড়ে। এর আগে ভোর চারটার দিকে এই ডাকাত দল শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের উত্তর নলবুনিয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বুলবুলের বাড়িতে ঢুকে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা লুট করে। বিকেলে এই ঘটনায় গৃহকর্তা কামরুজ্জামান বুলবুল বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতির মামলা করেছেন।

আটককৃতরা হলেন, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বুড়িরচর গ্রামের খালেক তালুকদারের ছেলে বাবু (২১) একই গ্রামের আমীর আলী খানের ছেলে আব্দুর রহিম খান (২০), একই উপজেলার পাতাঘাটা গ্রামের মোতালেব হাওলাদারের ছেলে সাগর (২৫), আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে বাবুল(২৪) ও গোলবুনিয়া গ্রামের মজনু হাওলাদারের ছেলে মেহেদি হাসান (২৬)। তবে আটককৃতরা তাদের প্রকৃত তথ্য পরিচয় গোপণ করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

কামরুজ্জামান বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল ভোর চারটার দিকে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকলে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায়। এসময়  তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে বেঁধে রেখে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। আমার বাড়িতে ডাকাতি করে ফিরে যাওয়ার সময় এই ডাকাত দলটি পার্শ্ববর্তী কেয়ার বাজারে পৌঁছালে ওই বাজারে পাহারারত নৈশ প্রহরীরা তাদের অপরিচিত দেখে সন্দেহের বসে তাদের আটক করে পুলিশে দেয়।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার বিকেলে এই প্রতিবেদককে বলেন, নৈশ প্রহরীদের হাতে আটক পাঁচ যুবক পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরণখোলার কামরুজ্জামান বুলবুলের বাড়িতে ডাকাতি করার কথা স্বীকার করেছে। তবে আটকৃতরা নিজেদের যে পরিচয় জানিয়েছে তা সবটা ঠিক নয়। এর মধ্যে সাগর বলে যে পরিচয় দিয়েছে তার আসল নাম ইদ্রিস আলী। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুরে বিভিন্ন থানায় অন্তত চার পাঁচটি ডাকাতির মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। এদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কামরুজ্জামান বুলবুলের বাড়িতে মোট ছয়জনের একটি দল প্রবেশ করে। এর মধ্যে একজন শরণখোলার বাসিন্দা রয়েছে। শরণখোলার ওই ব্যক্তি এদের পিরোজপুর থেকে ডাকাতি করতে এখানে এনেছিলেন বলে আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। সে পলাতক রয়েছে। তাকে পেলে ডাকাতির আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত