ভারতীয় গণমাধ্যমে চাপে পড়ে তাদের বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরত পাঠানো হয়েছে- এমন দাবি প্রত্যাখান করেছে পাকিস্তান।
দেশটির ররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, 'ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ ছিল না। কোনো বাধ্যবাধকতাও ছিল না।’
শনিবার বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেন। বিবিসির খবরে বলা হয়, পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলা ও ভারতীয় পাইলটের মুক্তির দাবিতে সৃষ্ট উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব চাপ দিয়ে আসছিল।
কুরেশি বলেন, ‘আমরা তাদের (ভারত) জানাতে চাই, আমরা আপনাদের দুঃখ বাড়াতে চাই না। আমরা ভারতীয়দের দুর্দশা চাই না। আমরা শান্তি চাই।’
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান অতীতে ফিরতে চায় না। কিন্তু যদি ফিরতে হয়, তাহলে আমাদের দেখতে হবে কেমন করে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে হামলা, পাঠানকোট ও উরিতে হামলা হয়েছে। আর সে এক দীর্ঘ ইতিহাস।’
৫৮ ঘণ্টা বন্দিদশা কাটিয়ে গতকাল শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেশের মাটিতে পা রাখেন অভিনন্দন। এ সময় তাঁর মুখে ছিল হাসি। তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরত এসে ভালো লাগছে।’
৩৪ বছর বয়সী এই পাইলটকে পাঞ্জাবের অমৃতসর জেলায় আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে ভারতের হাতে তুলে দেয় পাকিস্তান।
১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে।
ওই ঘটনার ১২ দিন পর মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। পরদিন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে কাশ্মীর সীমান্তে গোলা ও গুলিবিনিময় হয়।
