শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নীল বাসে স্বপ্ন দেখছে কাবুলের নতুন প্রজন্ম

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১১:০৯ পিএম

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহরতলির রাস্তার পাশে একটি নীল বাস এসে থামল। বাসটির দরজা খুলে যাওয়ার পরেই একঝাঁক শিশু বাসটির ভেতরে ঢুকে যায় স্বপ্নীল এক সময়ের সন্ধানে। বাসটির ভেতরে থাকা লাইব্রেরিতে তারা পড়তে পারে বিশ্বের অনেক অজানা তথ্য।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্য চারমাঘাজ নামের এই প্রকল্পের শুরু হয় যেখানে ভাসমান লাইব্রেরির মাধ্যমে কাবুলের শিশুদের মাঝে জ্ঞানের বিকাশ ঘটানোর চেষ্টার সূচনা হয়। প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেশতা করিম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এবং সমাজে শিশুদের যা শেখানো হয় না, তা শেখানোর উদ্দেশে এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি শুরু করা হয়। শিশুরা এখানে বিশ্বের অনেক কিছু জানতে পারে। ফলে তারা নিজেদের ভেতরের বিকশিত সত্তার সন্ধান পায়। এক বছর ধরে সফলভাবে এই প্রকল্প চলছে।’ প্রতিদিন ওই নীল বাসটি কাবুলের চারটি সম্প্রদায়ের কাছে যায়। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের শিশুদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা কাটানোর পর বাসটি অন্য জায়গায় চলে যায়। ভ্রাম্যমাণ এই লাইব্রেরিতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার শিশু রেজিস্ট্রেশন করেছে। আর প্রতিদিন প্রায় শতাধিক শিশু লাইব্রেরিতে পড়তে আসে।

লাইব্রেরির অধিকাংশ বই কাবুলের বিভিন্ন মানুষের দেওয়া। আর এই বইগুলোর দেখাশোনা করে প্রকল্পের তিনজন লাইব্রেরিয়ান। শুরুর দিকে সম্প্রদায়গুলো তাদের বাচ্চাদের ওই বাসটিতে যেতে দিতে চায়নি। কিন্তু এখন বাস্তবতা এমন যে, শিশুদের পরিবারই তাদের এগিয়ে দেয় লাইব্রেরিতে যাওয়ার জন্য। ফ্রেশতা করিমের ভাষায়, কাবুলের পরিবারগুলো ধীরে ধীরে বইপড়ার গুরুত্ব বুঝতে পারছে।প্রকল্পটিকে আরও বিস্তৃত করে স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে করিমের। কিন্তু এ জন্য যে অর্থ দরকার তা তাদের কাছে নেই। ফলে করিম আশা করেন, কোনো সংস্থা বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

কাবুলের এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে পর্যাপ্ত স্কুল-কলেজ নেই। তেমন এলাকাগুলোতে এই প্রকল্প শিশুদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন অনেকে। সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত