সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে প্রতিবাদী নাগরিক অবস্থান সমাবেশ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ১২:৫২ এএম

গ্যাস হাতে দুর্নীতি, অবচয় বন্ধ কর, গণশুনানির নামে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা ইত্যাদি এইরকম নানা স্লোগানে শনিবার ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে  প্রতিবাদী নাগরিক অবস্থান সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদী সমাবেশটি সভাপতিত্ব করেন লেখক,   কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ।

সমাবেশে লেখক, ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত প্রতিবাদী সমাবেশে উল্লেখ করে বলেন, বেশ কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত চাপে আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। অথচ আবাসিক গ্রাহকদের এখন চুলা প্রতি যে টাকা নেওয়া হয়, গ্রাহকেরা তার অর্ধেক গ্যাস ব্যবহার করে বলে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় প্রমাণ হাজির করেছেন।

অর্থাৎ গ্যাসের চুলায় গ্রাহকদের দেয় বিলের পরিমাণ অনেক বেশি। এ ছাড়া সারা দেশে   সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ না করায় জেলার উপজেলায় বেশি দানে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে সাধ রণ মানুষ। তবে এই সব বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটর কমিশন (বি আর সি) নীরব। সরব শুধু জনগণের পকেট কেটে ব্যবসায়ী আর কমিশন ভোগীদের স্বার্থ রক্ষায়।

  প্রতিবাদী সমাবেশে তুলে ধরে বলেন, তাই তো আবার ও আবাসিক গ্যাসের দাম দুই চুলায় ৮০০৷ টাকা থেকে ১২০০ করার প্রস্তাব নিয়ে বিআরসি গণশুনানির আয়োজন করেছে। অভিযোগ উঠেছে, গণশুনানিতে জনস্বার্থ লঙ্ঘন করে দুর্নীতিবাজ  প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পক্ষে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছে কমিশন সদস্যরা। পক্ষপাত দুষ্টু এই কমিশন দুর্নীতি দমন কমিশন চলমান দুর্নীতির ফাইল বিশেষ মহলের চাপে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরকারের এই সব আজ্ঞাবহ আর দুর্নীতিবাজদের আখড়ায় পরিণত হওয়ায়, দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নেওয়া জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আগামী ১১ মার্চ ২০১৯ থেকে গণশুনানির নামে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

 প্রতিবাদীদের সমাবেশের এক ফাঁকে সমাবেশে অংশগ্রহণ করা বিশিষ্টজনেরা কিছু দাবি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সদস্যদের মধ্যে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ ও পক্ষপাতদুষ্ট সকল সদস্যদের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আবাসিক গ্রাহকদের নিয়মিত গ্যাস ও সারা দেশে ন্যায্য মূল্য নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার চাই। শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে স্থলে ও সমুদ্র বক্ষের গ্যাস উত্তোলন ব্যবস্থা করা। এলেএনজি আমদানি নামে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ব্যবসায়ী,, কমিশন ভোগীদের পকেট ভারী করার অপনীতি বন্ধ করা।

শেষে সভাপতিত্বের বক্তব্যে সৈয়দ আবদুল মকসুদ বলেন, ১১ মার্চ যে গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে এইটা জনগণের সঙ্গে চরম পরিহাস করার সমান। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে আর এখন বাংলাদেশের মানুষদের ন্যায্য মূল্য গ্যাস থেকেও বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে। দেশের জনগণের এইভাবে ভোট অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং ন্যায্য মূল্যে গ্যাস থেকে বঞ্চিত করা নাগরিক আইন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন এর শামিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত