বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাতিয়ায় ১৫৬ জন শিক্ষকের বেতনহীন মানবেতর জীবন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০৫:১৩ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দুর্গম এলাকার ৩৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বেতন পাচ্ছেন না। এই বিদ্যালয়গুলোর ১৫৬ জন শিক্ষক পরিবার পরিজন নিয়ে  খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হাতিয়ার ৩৯ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও সরকারি হয়নি। ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২০১২ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত দেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের ঘোষণা দেন। তিন দফায় দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়। রহস্যজনক কারণে বাদ পড়ে হাতিয়ার ৩৯টি বিদ্যালয়।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দরবেশ বাজার হাজি গ্রাম বিদ্যালয় থেকে গত ৭ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ১৫৭ জন অংশগ্রহণ করে এবং ১৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়। এ বছর শিক্ষার্থী আছে ৩২৪ জন। শিক্ষকগণ  প্রতি বছর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নতুন বই এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলি করেন, প্রশ্ন এনে পরীক্ষা নেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ এবং নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় ও অন্যান্য দিবস পালন করেন। অথচ শিক্ষকরা বেতন পান না, বিদ্যালয়ের নামে সরকারি বরাদ্দ আসে না, শিক্ষার্থীরাও উপবৃত্তি পায় না। প্রধান শিক্ষক মো.আইয়ুব আলী সোহাগ বলেন, অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও আমার বিদ্যালয় ভালো চলছে।  সহকারী শিক্ষক তাহমিনা বেগম বলেন, বিদ্যালয়টি সরকারি না হওয়ায় আমরা  অনেক কষ্টে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে সংসার চালাচ্ছি।              

একই চিত্র ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুজিব বাজার ও রসুলপুর এবং ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত মুজিব নগর বিদ্যালয়সহ বাকি প্রায় সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ লিডারশিপ ও কারিকুলাম প্রশিক্ষণ এবং প্রধান ও সহকারী শিক্ষকগণ বিষয়ভিত্তিক, মার্কিং স্কিম ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শিক্ষকেরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন, ভোটার তালিকাকরণ ও হালনাগাদকরণের এবং শিশুদেরকে টিকা খাওয়ানোসহ নানারকম রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করেন।  

কেন বিদ্যালয়গুলো সরকারি হচ্ছে না এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভবরঞ্জন দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাচাইবাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়, সরকারি না হওয়ার কারণ জানি না’।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা কমিটির যাচাইবাছাই শেষে বিদ্যালয়গুলোর তালিকা যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়। বিদ্যালয়গুলো ভালোই চলছে, কেন সরকারি হচ্ছে না  জানা নেই’।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত