শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সৌদি নাগরিক হত্যা মামলা: সাইফুলের ফাঁসির প্রস্তুতি সম্পন্ন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ০৯:১৮ পিএম

ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ বিন মোহাম্মদ সালেম আলী (৪৫) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলামের ফাঁসির রায় কার্যকরে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রোববার রাত ১০টা ১ মিনিটে এই রায় কার্যকর করা হবে। সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সাইফুল ইসলামের (৪৯) দণ্ড কার্যকরের সময় প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকবেন।

হাই সিকিউরিটি কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বিকাশ রায়হান দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আসামি সাইফুল এখানে বন্দী আছেন। লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা রবিবার সকালে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়। কারাবিধি অনুযায়ী সকল নিয়ম অনুসরণ করে রায় কার্যকর করা হচ্ছে। সাইফুলের আত্মীয়স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা লাশ গ্রহণ করার পর লাশ গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সাইফুলের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ রায় দেশ রূপান্তরকে জানান, রাত ৮টা পর্যন্ত আমরা কোন নির্দেশনা পাইনি।

কাশিমপুর কারাগার সূত্র জানায়, মৃত্যু পরোয়ানা পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাঁসিরমঞ্চ তৈরি করা হয়। ফাঁসি কার্যকরের আগে সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মঞ্জুরুল হক, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মশিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আবু নাসার উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ শরিফুর রহমান কারাগারে হাজির হবেন। তাদের উপস্থিতিতে ফাঁসি কার্যকর করার কথা রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সৌদি দূতাবাসের নন ডিপ্লোমেটিক স্টাফ হিসেবে কর্মরত খালাফ বিন মোাহম্মদ সালেম আলী (৪৫)। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর পুলিশ গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় কয়েক দফায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সৌদি আরব।

মামলার সাড়ে চার মাস পর অপর একটি অস্ত্র মামলায় চার আসামি সাইফুল, আল-আমীন, আকবর আলী ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় খালাফ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল। পরে ফরেনসিক পরীক্ষাতেও হত্যাকাণ্ডে ওই পিস্তল ব্যবহারের প্রমাণ মিলে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা খালাফকে হত্যার বিষয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

ডিবি পুলিশ ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে গ্রেপ্তার চারজনের সঙ্গে সেলিম চৌধুরী নামে পলাতক আরেক আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর রায় দেন। তাতে শুধু সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে অপর তিন আসামি আল আমীন, আকবর আলী ও রফিকুল ইসলামের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। পলাতক আসামি সেলিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাকাতি করতে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

আসামিরা জবানবন্দিতে বলেন, খালাফকে হত্যা করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হামলা করে। খালাফকে পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবার দিয়ে গুলি করে সাইফুল । এতে আহত হয়ে পরে মারা যান খালাফ। পলাতক আসামি সেলিমের বিরুদ্ধে তেমন কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ না খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে আসামিপক্ষ। অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞার নেতৃত্বে চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর আপিল খারিজ করে সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন সাজার আদেশ বহাল রাখেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত