সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘ইনজেকশনের যন্ত্রণায়’ ১২ তলা থেকে লাফ

গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের বারডেম বলছে ভিত্তিহীন

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:০৫ এএম

রাজধানীর শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের ১২ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে সোহরাব হোসেনের (২০) মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের গাফিলতিকে দায়ী করছে পরিবার। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসকের কোনো অবহেলা ছিল না। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত হাসপাতালের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। গত শনিবার বিকেলে বারডেম হাসপাতালের ১২ তলার টয়লেটের ভেন্টিলেটর ভেঙে লাফিয়ে পড়ে মারা যান ইউরোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন সোহরাব। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৃতের বড়ভাই কবির মোল্লা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বারডেম হাসপাতালে ভর্তির পর ২৭ ফেব্রুয়ারি সোহরাবের পুরুষাঙ্গে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন তাকে ১২ তলার ১২০২ নম্বর কেবিনে নেওয়া হয়। ওই রাত থেকে তার ঘুম ছিল না। অস্ত্রোপচারের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ছোটাছুটি করত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার ডাক্তার ও নার্সদের বললেও তারা আমাদের কথায় কান দেয়নি। শনিবার বিকেলে ব্যথা বেড়ে গেলে সে ছোটাছুটি শুরু করে। তখন ডাক্তারদের ঘুমের ওষুধ দিতে বললে তারা আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সোহরাব কেবিন থেকে বের হয়ে পাশের ওয়ার্ডের টয়লেটে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিচে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়।’ জানতে চাইলে বারডেম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল হক মল্লিক বলেন, ‘পরিবারের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন।’ তদন্ত ছাড়া কীভাবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি দেশ রূপান্ত রকে বলেন, ‘ওই রোগীর চিকিৎসার ডকুমেন্টারি এভিডেন্স দেখে, ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি চিকিৎসকের কোনো ভুল ছিল না।’ শহীদুল হক মল্লিক আরও বলেন, ‘মৃতের পরিবারের সঙ্গে কোনো বাজে ব্যবহারের ঘটনা ঘটেনি।’ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী রমনা থানার এসআই শওকত আলী বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোহরাব যন্ত্রণা সইতে না পেরে ১২ তলার টয়লেটের গ্লাস ও অ্যাডজাস্ট ফ্যান ভেঙে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ‘হাসপাতাল পরিচালককে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘কীভাবে সোহরাবের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।’ এদিকে গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে সোহরাবের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ মাগরিব তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীর সৈয়দগাঁওয়ে দাফন করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত